Home Lead ৫ কোটি টাকার প্রকল্প তিন বছর ধরে পরিত্যক্ত, চুরি গেছে যন্ত্রাংশ

৫ কোটি টাকার প্রকল্প তিন বছর ধরে পরিত্যক্ত, চুরি গেছে যন্ত্রাংশ

19


স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনায় প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল ও কম্পোস্ট সার উৎপাদনের লক্ষ্যে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্লান্ট নির্মাণ করেছিল পরিবেশ অধিদফতর। কিন্তু নির্মাণের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও একদিনের জন্যও ঘোরেনি কারখানার চাকা। উল্টো প্লান্টের মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে। পাশাপাশি জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার তীব্র দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গ্রিনহাউস গ্যাস কমাতে এবং বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের জন্য ২০২২ সালে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে ২০২৩ সালে এই প্লান্ট তৈরি করে পরিবেশ অধিদফতর।

কথা ছিল, প্লান্টটিতে প্রতিদিন ২০ টন বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার এবং প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে ৫০০ লিটার তেল উৎপাদন হবে। নির্মাণ কাজ শেষে প্লান্টটি বুঝে নিতে কেসিসিকে চিঠি দেয় পরিবেশ অধিদফতর। কিন্তু কারখানাটি চালু করে এর কার্যক্রম দেখাতে না পারায় এটি বুঝে নিতে অস্বীকৃতি জানায় কেসিসি। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে প্লান্টে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার কারণে সৃষ্ট দুর্গন্ধের ফলে স্থানীয়দের নাজেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক নেতারা। রাষ্ট্রীয় অর্থের এমন অপচয়ের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘প্লান্টটি যেখানে একটি মডেল হতে পারত, সেখানে এটি অপচয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি অর্থের প্রতি সংশ্লিষ্ট দফতরের যে কোনো দায়বদ্ধতা নেই, তারই প্রমাণ এই প্রকল্প।’ দ্রুত সময়ের মধ্যে প্লান্টটি চালু করে জনগণকে ভোগান্তি থেকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানান তিনি। জানা গেছে, প্লান্ট চালু না হলেও প্রকল্প ব্যয়ের সব টাকা এরই মধ্যে ঠিকাদারকে পরিশোধ করেছে পরিবেশ অধিদফতর।

এ বিষয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘ঠিকাদার ও পরিবেশ অধিদফতরের গাফিলতিতেই এ সমস্যা হয়েছে। প্লান্ট চালু করে দিলে আমরা বুঝে নেব।’ বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি।

অন্যদিকে সম্প্রতি প্লান্টটি চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। তবে আর্থিক ক্ষতির দায় কে নেবে; এমন প্রশ্নের জবাবে সবাইকে নিয়ে ম্যানেজ করার কথা জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদফতর খুলনার উপ-পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম।