স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা অঞ্চলে সম্প্রতি নেমে আসা চার দিনের অবিরাম ও ভারী বর্ষণে উপকূলীয় মৎস্য ও কৃষি খাতে এক ভয়াবহ ধস নেমেছে। গত ৯ থেকে ১২ জুলাইয়ের টানা বৃষ্টিপাতে প্লাবিত হয়েছে হাজার হাজার মাছের ঘের, দিঘি, পুকুর এবং ফসলি জমি। মৎস্য ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলায় দুটি খাতে অন্তত ১৪০ কোটি ৫০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; যার মধ্যে এককভাবে মৎস্য খাতেই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২৬ কোটি টাকা এবং কৃষিতে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা। সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে রেণু ও পোনা ছেড়ে রাখা চিংড়িচাষি এবং তরমুজচাষিদের ওপর।
খুলনা বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বৃষ্টিতে বিভাগের ১০টি জেলা প্লাবিত হলেও সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায়। পুরো বিভাগে প্রায় ৪ হাজার ৭৬৪টি পুকুর এবং ২ হাজার ৮০৮টি দিঘি ও মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে। মৎস্য খাতের ১২৬ কোটি টাকার ক্ষতির মধ্যে সাদা মাছে ৭৩ কোটি, কাঁকড়া ও কুঁচিয়ায় ২৯ কোটি, চিংড়িতে ১৫ কোটি, মাছের পোনায় ৯ কোটি এবং অবকাঠামো ও বাঁধে প্রায় ৬ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশের অন্যতম প্রধান চিংড়ি উৎপাদনকারী কেন্দ্র ডুমুরিয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যয় ঘটেছে; সেখানে প্রায় ৬৫০টি ঘের ডুবে গিয়ে ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তেলিগাতি মৌজার বিল ডাকাতিয়ার প্রখ্যাত মৎস্যচাষি মমরোজ আলী জানান, তাঁর ৬৫ একরের তিনটি খামারের মধ্যে দুটিই ভেসে গিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে, যা সরকারি প্রণোদনা ছাড়া সামলানো অসম্ভব। অন্যদিকে পুরষ্কারপ্রাপ্ত চিংড়িচাষি মাহতাব হোসেন জানান, মৌসুমের শুরুতেই এমন প্লাবনে পোনা ছাড়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ভেস্তে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যমতে, এই বর্ষণে প্রায় ৭ হাজার ৭৩৬ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ১৮০.৩ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে চলে গেছে। কৃষিখাতে সবচেয়ে বেশি আঘাত পেয়েছেন তরমুজচাষিরা, যাঁদের ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা; এছাড়া ধান ও গ্রীষ্মকালীন সবজি খাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। তবে জমি থেকে পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় কৃষকেরা এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, আমন ধানের পর্যাপ্ত বীজতলা প্রস্তুত রয়েছে এবং বিএডিসির কাছে ১০০ টন অতিরিক্ত বীজ মজুত আছে। ইতোমধ্যে ডুমুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা পানি নামতে শুরু করায় নতুন করে সবজি ও আমনের বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।








































