দিঘলিয়া প্রতিনিধি।।
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশখানার বাসিন্দা মোহাম্মাদ ফরহাদ হোসেন (ওরফে ফারাক) নিজের প্রাণনাশের হুমকি ও সামাজিকভাবে মানহানির অভিযোগ এনে দিঘলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গত শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০টায় তিনি দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর এই লিখিত অভিযোগটি জমা দেন। অভিযোগপত্রে দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮ জন ইউপি সদস্যসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের স্বাক্ষর সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগের অনুলিপি খুলনার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার (‘ক’ অঞ্চল) এবং দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে ফরহাদ হোসেন উল্লেখ করেন, উপজেলার ফরমাইশখানার বাসিন্দা মৃত গফফার মোড়লের ছেলে শফিকুর মোড়ল এবং মৃত মন্টু মোল্লার ছেলে মোল্লা হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে একটি চক্র তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্তরা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তার স্ত্রীর মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে। তাদের এই জমি দখল ও মাদক ব্যবসার বিরোধিতা করায় তাকে গ্রামছাড়া করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
অভিযোগকারী আরও জানান, ইতিপূর্বে গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে তিনি দিঘলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৩৫৭) করেছিলেন। পরবর্তীতে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে দিঘলিয়া থানা পুলিশের অভিযানে ওই চক্রের অন্যতম সদস্য মো. আব্দুস সালাম সরদার গ্রেপ্তার হন। পরে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত সালামকে ১০ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
আদালতে সাজা ও গ্রেপ্তারের ঘটনার পর থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা এবং তাদের সহযোগীরা ফরহাদ হোসেন ও তার ভাগ্নে বশিরুল হক (বাবু মোল্লা)-কে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া শফিকুর মোড়ল অতীতে সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং মোল্লা হারুন অর রশিদ দীর্ঘদিন দিঘলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলেও দাবি করেন ফরহাদ হোসেন। তিনি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত হারুন অর রশিদ বলেন, “ফরহাদ হোসেনের সাথে আমার দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কোনো প্রকার কথাবার্তা হয় না। সেখানে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না।” আরেক অভিযুক্ত শফিকুর মোড়লও তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
এ ব্যাপারে দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, “গত শুক্রবার অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”








































