Home আঞ্চলিক ৫৭ বছরেও উন্নয়নের ছোয়া লগেনি বিপিজিএম মা: বিদ্যালয়ে: ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম

৫৭ বছরেও উন্নয়নের ছোয়া লগেনি বিপিজিএম মা: বিদ্যালয়ে: ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম

23


মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি।।


বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পুটিখালী ইউনিয়নে ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘বিপিজিএম রহমানীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়’টি বর্তমানে চরম অবকাঠামোগত সংকট ও জরাজীর্ণ দশায় পতিত হয়েছে। সুদীর্ঘ ৫৭বছরের পুরোনো এই বিদ্যাপীঠটিতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাব, ভবন সংকট এবং প্রশাসনিক উদাসীনতায় পঠন-পাঠনের পরিবেশ দিন দিন ভেঙে পড়ছে; যার ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, এর পুরোনো ভবনগুলোর অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ। শ্রেণিকক্ষগুলোর পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ছাদের পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ ভেসে যায়, যার ফলে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় বৃষ্টি শুরু হলে তড়িঘড়ি করে ক্লাস বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন শিক্ষকেরা। যেকোনো সময় ছাদ ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা ও আতঙ্ক নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে।


ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পাশাপাশি বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের তুলনায় পর্যাপ্ত ও আধুনিক শৌচাগারের তীব্র অভাব রয়েছে। যে কয়টি শৌচাগার আছে, তাও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া বিশুদ্ধ খাবার পানির চরম সংকট এবং প্রখর গরমে পর্যাপ্ত ফ্যান না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত ক্লাসরুমে হাঁসফাঁস করতে হয়। বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার শিকার হয়, ফলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার সুযোগও বন্ধ রয়েছে।

এক সময় মোরেলগঞ্জ অঞ্চলের অন্যতম নামকরা ও প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত থাকলেও, বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা না বাড়লে আগামীতে শিক্ষার্থী সংখ্যা আরও আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই অঞ্চলকে শিক্ষার আলো দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে বর্তমান দুর্দশার কথা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ ঊর্ধ্বতন মহলে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো বরাদ্দ বা নতুন ভবন নির্মাণের সবুজ সংকেত মেলেনি।


বিপিজিএম রহমানীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং শত শত শিক্ষার্থীর নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত জরাজীর্ণ ভবনগুলো সংস্কার এবং একটি নতুন আধুনিক ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও এলাকাবাসী।