Home Lead ২০০ স্কুলই পরিত্যাক্ত, পলিথিনের ছাউনিতে পাঠদান কোমলমতি শিক্ষার্থীদের

২০০ স্কুলই পরিত্যাক্ত, পলিথিনের ছাউনিতে পাঠদান কোমলমতি শিক্ষার্থীদের

19

বাগেরহাট প্রতিনিধি।।

উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে চরম অবকাঠামোগত সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার মোট ১ হাজার ১৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২০০টি বিদ্যালয়ই বর্তমানে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিণত হয়েছে। কোথাও ভবন না থাকায় গোলপাতা ও পলিথিনের ছাউনির নিচে, আবার কোথাও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া পরিত্যক্ত ভবনে চরম আতঙ্ক ও ঝুঁকির মধ্যে চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম। ফলে জেলার সামগ্রিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৯০নং পশ্চিম তেলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে দেখা যায় এক করুণ চিত্র। দূর থেকে এটিকে পরিত্যক্ত খামার ঘর মনে হলেও, এটিই মূলত শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো ছড়ানোর একমাত্র স্থান। ২০২২ সালে এই বিদ্যালয়ের একমাত্র পাকা ভবনটি নিলামে অপসারণের পর গত ৩ বছর ধরে কোনো নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়নি। নিরুপায় হয়ে শিক্ষকেরা নিজেদের অর্থ দিয়ে গোলপাতা ও পলিথিনের ছাউনি দিয়ে একটি অস্থায়ী ঘর তৈরি করে ৯৭ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছেন। একই ঘরে একসাথে তিনটি ক্লাসের কার্যক্রম চলায় শিক্ষকেরা যেমন বিড়ম্বনায় পড়ছেন, তেমনি চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার ও জুয়েল জানায়, ক্লাসরুমে বেড়া না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বই-খাতা ও শরীর ভিজে যায় এবং লাইব্রেরিতে আশ্রয় নিতে হয়; বিদ্যুৎ ও ফ্যান না থাকায় তীব্র গরমে তাদের কষ্ট দ্বিগুণ হয়ে যায়। অভিভাবক ইমাম শেখ আক্ষেপ করে বলেন, চালের ওপর পলিথিন দিয়ে ক্লাস চলে, বৃষ্টি আসলেই পোলাপানের বই খাতা নিয়ে বাড়িতে দৌড় দিতে হয়। এছাড়া ৬টি পদের বিপরীতে মাত্র ৩ জন শিক্ষক থাকায় পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোজিনা আক্তার।

একই চিত্র দেখা গেছে ২৪৬নং পশ্চিম ঢুলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে পরিত্যক্ত ভবনের পিলারে বড় বড় ফাটল ধরেছে এবং ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোহিফুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, এক সময় এই স্কুলটি বৃত্তিতে ইউনিয়নে প্রথম হতো। কিন্তু এখন ভবন ও শিক্ষার পরিবেশ না থাকার কারণে সাধারণ মানুষের এই বিদ্যালয়ের প্রতি আকর্ষণ কমে গেছে এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বাগেরহাট সদরে ৫০টি, চিতলমারীতে ৩৭টি, মোরেলগঞ্জে ৩৪টি, ফকিরহাটে ৩০টি, রামপালে ১৩টি, কচুয়ায় ১২টি, মোল্লাহাটে ১১টি, শরণখোলায় ১১টি এবং মোংলায় ২টি বিদ্যালয় জরাজীর্ণ ও ভবনহীন অবস্থায় রয়েছে।

বাগেরহাট সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিকদার আতিকুর রহমান জুয়েল জানান, জেলার ২০০টি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা ইতিমধ্যে প্রস্তুত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর হাবিবুল্লাহ বলেন, উপকূলীয় এই অঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সংকট সত্যি উদ্বেগের। উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় রেজুলেশন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে; নতুন অবকাঠামো ও ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে।