স্পোর্টস ডেস্ক।।
ফাইনাল ম্যাচের রোমাঞ্চকর আবহের মধ্যেই ফিফার বিরুদ্ধে ‘জালিয়াতির দুয়ার উন্মুক্ত’ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলল ইউরোপের মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সংস্থা কাউন্সিল অব ইউরোপ। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবে বিশ্বকাপের সততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি।
রবিবার (১৯ জুলাই) এক খোলা চিঠিতে কাউন্সিল অব ইউরোপের মহাসচিব আলাঁ বেরসে ওই অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে তিনি ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের আগে একটি ‘সততা ও স্বচ্ছতা কাঠামো’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। সুইস নাগরিক আলাঁ বেরসে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘ফিফা বর্তমানে অর্থ ও ক্ষমতার এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত।’
চিঠিতে আলাঁ বেরসে মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা নাটকীয়ভাবে স্থগিত করার তীব্র সমালোচনা করেন। পাশাপাশি কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিল্লার বর্ণবাদী মন্তব্য ও ফ্রান্স দল নিয়ে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাখয়ের রাজনৈতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেন।
আলাঁ বেরসে চিঠিতে লিখেছেন, ‘২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ একের পর এক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। চাপের মুখে পড়ে একটি শাস্তি স্থগিত করা হলো। মাঠে রেফারির কর্তৃত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলা হলো। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে খেলোয়াড়রা বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হলেন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ম্যাচের প্রতিটা পাস, প্রতিটা কার্ড এবং প্রতিটা কর্নার নিয়ে জুয়া খেলার লাইসেন্স। উৎসবের আলো আজ নিভে যাবে ঠিকই, কিন্তু এই প্রশ্নগুলো রয়ে যাবে।’
ফিফা ও কাউন্সিল অব ইউরোপের মধ্যে ২০১৮ সালে খেলাধুলায় মানবাধিকার, সততা ও সুশাসন শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, যা এখনও কার্যকর।
গত এপ্রিলে এডিআই প্রেডিক্টস্ট্রিটের সঙ্গে ফিফার যে চুক্তি হয়েছে, সে বিষয়ে আলাঁ বেরসে বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি এবারের বিশ্বকাপে অফিশিয়াল ‘প্রেডিকশন মার্কেট পার্টনার’ হিসেবে কাজ করছে। তাই জুয়া এখন আর ম্যাচের শেষ ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ম্যাচের স্কোরলাইনে কোনো প্রভাব না ফেলে একজন খেলোয়াড় মাঠে কী করতে পারেন (যেমন নির্দিষ্ট সময়ে পাস বা ফাউল)- সেই মুহূর্তগুলোর ওপর এখন জুয়া ধরা হচ্ছে। আর একজনের জুয়ায় জেতা মানেই অন্য অনেকের হেরে যাওয়া। এটি মূলত প্রাতিষ্ঠানিক জালিয়াতির এক খোলা দরজা। আর এবারের বিশ্বকাপ সেই দরজাটি আরও বেশি চওড়া করে দিয়েছে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনালাপের পর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নির্দেশে বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি লিখেন, ‘যখন চাপের মুখে নিয়মকানুন এভাবে ভেঙে পড়ে বা বেঁকে যায়, তখন মাঠের প্রতিটি ফলাফলই সন্দেহের তালিকায় চলে আসে।’ যদিও ইনফান্তিনো বরাবরই দাবি করে আসছেন, ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এবং নিয়ম মেনেই বালোগানের শাস্তি মওকুফ করেছে।
কাউন্সিল অব ইউরোপ প্রধানের চিঠিটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৭২ জন সদস্য ইইউ-ভিত্তিক ২৭টি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি দিয়ে বালোগান ইস্যুতে ফিফা সভাপতির নিরপেক্ষতা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। গত জুনেও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ সদস্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেন। তবে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা বিষয়টি বেশিদূর নিয়ে যেতে আগ্রহী নয় বলেই জানা যাচ্ছে।








































