খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
দীর্ঘদিন ধরে খুলনার ভৈরব নদের ওপর সেতু দেখার স্বপ্ন বুনছেন দিঘলিয়া উপজেলার বাসিন্দারা। ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার পথ খোলে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন হয় ৬১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ভৈরব সেতু নির্মাণ প্রকল্প। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালের ২৪ মে সেতুর আনুষ্ঠানিক কাজও শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু পাঁচ বছরে দৃশ্যমান হয়েছে শুধু ১৭টি পিলার। তথ্য সূত্র: দৈনিক সমকাল
গত দেড় বছর ধরে সেতুর কাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদার। বাধ্য হয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখায় প্রকল্পের খরচ বাড়ছে। নতুন ঠিকাদার নিয়োগ ও সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে অন্তত ছয় মাস। কাজ শেষ হতে সময় লাগবে আরও দুই বছর। এতে সেতুর জন্য দিঘলিয়া মানুষের অপেক্ষাও দীর্ঘ হচ্ছে।
খুলনা শহর থেকে দিঘলিয়া উপজেলাকে বিচ্ছিন্ন করেছে ভৈরব নদ। নদের নগরঘাট এলাকায় সেতুটি নির্মাণ হচ্ছে। সেতুর ২১টি পিলারের মধ্যে ১৭টির কাজ শেষ হয়েছে। অন্য চারটির জন্য ৪০টি পাইপ বসাতে হবে। সেই কাজ এখনও শুরু হয়নি।
সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কের জন্য নদের দুই পারে সাড়ে ১৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। শহরের পারের জমিতে ছিল বড় বড় শিল্প-কারখানা। ওই জমি বুঝে পাওয়াই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ। এ জন্য বরাদ্দ ছিল ২৮১ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ে স্থাপনা অপসারণ করে পুরো জমিই বুঝে নিয়েছে সড়ক বিভাগ। তারপরও দেড় বছর ধরে কাজটি বন্ধ রয়েছে।
প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, প্রথম নকশায় নদের মাঝে দুটি পিলার ছিল। কিন্তু নদের মধ্যে পিলার বসালে পলি জমে নদী ভরাট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য নকশা সংশোধন করে নদের মাঝে দুটি পিলার সরিয়ে তীরে স্থাপন করা হবে। এতে স্টিলের মূল সেতুর দৈর্ঘ্য দাঁড়াবে ১৫১ মিটার। এ ছাড়া সেতুর দুই পাশে স্বল্পগতির যান চলাচলের জন্য পৃথক লেন না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছিল। নকশা সংশোধন করে দুই পাশে সেই লেন করা হয়েছে। এ জন্য সেতুর প্রশস্ততা দেড় গুণ বেড়ে ১০ দশমিক ৩ মিটার হয়েছে। মহসিন মোড়ে রেললাইনের ওপর কংক্রিটের গার্ডার বদলে সেটি স্টিল করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংশোধিত নকশা চূড়ান্ত হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চার লেনের মূল সেতুটি হবে ১৫১ মিটার। নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নদী থেকে প্রায় ৬০ ফুট উঁচুতে পিসি গার্ডার নকশায় সেতুটি নির্মাণ হবে। সেতুর সঙ্গে সড়কের সংযোগ স্থাপন করতে দুই পাশে তিন কিলোমিটারেরও বেশি উড়াল সড়ক (ভায়াডাক্ট) নির্মাণ হচ্ছে। এর মধ্যে খুলনা শহর প্রান্তে
নগরীর মহসিন মোড় পর্যন্ত ১ দশমিক ২৭ কিলোমিটার এবং দিঘলিয়া প্রান্তে নদ থেকে উপজেলা মোড় পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ হচ্ছে। এতেই খরচ বেড়েছে বেশি। বর্তমানে প্রকল্পের মোট ব্যয় ৬১৭ কোটি টাকা।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সেতু নির্মাণের জন্য ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তাদের ২০২২ সালের ২৫ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে কাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্পের মেয়াদ দেড় বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। কাজ শেষ না হওয়ায় চলতি বছর ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়।
গত ৩০ জুনের অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ বছরে কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ৬২ কোটি টাকা।
প্রকল্প এলাকায় গিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মো. শামীম জানান, সেতু নিয়ে আপাতত তিনি কোনো কথা বলতে চান না।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক বলেন, প্রকল্পের সব জটিলতা দূর হয়েছে। কিন্তু গত দেড় বছরে ডজনখানেক চিঠি দেওয়ার পরও ঠিকাদার কাজ করছেন না। এ জন্য চুক্তি বাতিলের জন্য তাঁকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নকশা ও প্রকল্প সংশোধনের কাজ চলছে। দ্রুত সংশোধিত প্রকল্প উত্থাপন করা হবে। অনুমোদন হলে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ করা হবে।










































