Home Lead বৃষ্টি ও বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৫১

বৃষ্টি ও বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৫১

4


ঢাকা অফিস।।


দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি, ঢল, বন্যা ও পাহাড় ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারে। বন্যাকবলিত সাত জেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মোট মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জনে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের রোববার(১২ জুলাই) দুপুরের সবশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে।


সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশের সাতটি জেলার (চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ) ৫৮টি উপজেলা বন্যা ও জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন ও পৌরসভার সংখ্যা যথাক্রমে ৩৮৬টি ও ১১টি।

বৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড় ধসে গত কয়েকদিনে যত মৃত্যু হয়েছে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারে। সেখানে পাহাড় ধস ও বন্যাজনিত কারণে মোট ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। আহত হয়েছে আরও ২৪ জন, যাদের মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় এবং ৫ জন রোহিঙ্গা। এছাড়া এই জেলায় ১ জন এখনও নিখোঁজ।

কক্সবাজারে বর্তমানে ১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভা বন্যাকবলিত; যেখানে পানিবন্দি ৩৯ হাজার ৫০৬টি পরিবারের ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন মানুষ চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। আহত হয়েছেন ১২ জন। সেখানকার ১৬টি উপজেলা এবং মহানগরীর আংশিক এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলায় সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৯৫ হাজারে। চট্টগ্রামে দুর্গতদের জন্য ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ২১ হাজার ৯০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

পার্বত্য জেলা বান্দরবান ও রাঙামাটিতেও প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বান্দরবানে বন্যা ও পাহাড় ধসে ৬ জন নিহত এবং ২ জন আহত হয়েছে। জেলার সাত উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ১২ হাজার ৫০০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৩৫০ জন মানুষ।

রাঙামাটি জেলায় প্রাণহানি ঘটেছে ৩ জনের। জেলার ৯টি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ৩ হাজার ৫২৪ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তবে খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলেও সেখানে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

মৌলভীবাজারের ৫টি উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৬ হাজার ৫৪৪ জন; মৃত্যু হয়েছে ১ জনের।

হবিগঞ্জের ৩টি উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৬ হাজার ৪৪৫টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে, তবে জেলাটিতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য ইতোমধ্যে সরকারিভাবে ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন। বন্যা উপদ্রুত এলাকাগুলোর জন্য অর্থ বরাদ্দ ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শুরু করেছে সরকার।

গত ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় সাধারণ ও বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ টন চাল ছাড় করা হয়েছে। এর মধ্যে বন্যাকবলিত সাত জেলার জন্য ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলাওয়ারী ত্রাণ বরাদ্দের তথ্যে দেখা গেছে, চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৬৫ লাখ টাকা এবং ১২০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাঙামাটিতে ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ টন চাল, কক্সবাজারে ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ টন চাল, খাগড়াছড়িতে ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ টন চাল, বান্দরবানে ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ টন চাল, মৌলভীবাজারে ১০ লাখ টাকা ও ২০০ টন চাল এবং হবিগঞ্জে ৫ লাখ টাকা ও ১০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বন্যার্তদের মধ্যে শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য এবং রান্না করা খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।