Home Lead হামের পরও কাটছে না ভোগান্তি, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিলতায় ভুগছে শিশুরা

হামের পরও কাটছে না ভোগান্তি, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিলতায় ভুগছে শিশুরা

13

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
হামের প্রকোপ কিছুটা কমলেও শিশুদের ভোগান্তি কমছে না। হাম থেকে সেরে ওঠার পরও অনেক শিশু নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, জ্বর, কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য, হামের কারণে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এসব জটিলতা দেখা দিচ্ছে। ফলে হাম ভালো হলেও অনেক শিশুকে দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে।
আট মাস বয়সী রিফাত গত ১০ দিন ধরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। প্রথমে জ্বর, কাশি, সর্দি ও শরীরে র‌্যাশ দেখা দিলে তাকে বরিশালের একটি স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক এটিকে অ্যালার্জি বলে ধারণা করে ওষুধ দেন। তবে ওষুধ সেবনের পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। হাত-পা, চোখ-মুখসহ সারা শরীরে, বিশেষ করে বিভিন্ন জয়েন্টে হাম ছড়িয়ে পড়ে।
পরে তাকে বরিশাল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখান থেকে ঢাকার ডিএনসিসি হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে হাসপাতালটি চিনতে না পারায় স্বজনরা তাকে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করেন। এ পর্যন্ত রিফাতের চিকিৎসায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।
রিফাতের মা জানান, ঢাকায় তাদের কোনও আত্মীয়-স্বজন নেই। তাই তিনি, তার স্বামী ও সন্তানকে চরম কষ্টের মধ্যেই দিন কাটাতে হচ্ছে। তার স্বামী একটি ফার্নিচারের দোকানে কাজ করেন। সন্তানের অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন কাজে যেতে না পারায় পরিবারের আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। চিকিৎসার ব্যয় চালাতে ঋণ করতে হচ্ছে।
তিনি জানান, হাম ভালো হলেও রিফাতের নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া এখনো রয়েছে। তাকে এখনও অঙ্েিজন দিতে হচ্ছে। নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় বুকে শব্দ হয়। পাশাপাশি ডায়রিয়াও রয়েছে। তাই হাম ভালো হলেও কবে বাড়ি ফেরা যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
একই ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ফরিদপুরের ১১ মাস বয়সী জায়ান। প্রায় এক মাস ধরে সে অসুস্থ। শুরুতে তার জ্বর ও বমি হয়। স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হলেও কয়েক দিন পর আবার জ্বর আসে। এভাবে প্রায় ১০ দিন চলার পর হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি ঘটে।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অন্তরা বলেন, হামের প্রকোপ কিছুটা কমলেও প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুই ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে আসছে এবং তাদের বেশিরভাগই হামের টিকা নেয়নি।
তিনি বলেন, বর্তমানে নতুন হামের রোগীর তুলনায় পোস্ট-মিজেলস রোগীর সংখ্যা বেশি। এদের অধিকাংশই ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। হাম-পরবর্তী সময়ে নিউমোনিয়া বা অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হলে সুস্থ হতে কিছুটা বেশি সময় লাগে। কারণ তখন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম থাকে।
ডা. অন্তরা বলেন, টিকা নেওয়ার পরও কেউ কেউ আক্রান্ত হতে পারে। তবে তাদের জটিলতা তুলনামূলক কম হয়। হাম থেকে সুস্থ হওয়ার পর অনেক শিশুই নিউমোনিয়া, জ্বর, কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য সমস্যায় আবার হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। হাম ভালো হয়ে গেলেও অন্যান্য জটিলতার কারণে তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড় দেওয়া যাচ্ছে না। হামের কারণে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এসব জটিলতা দেখা দেয়।
তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পরও শিশুদের বিশেষ যত্নে রাখতে হবে। পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে এবং শিশুর প্রতি অতিরিক্ত যত্ন নিতে হবে। পাশাপাশি যেসব শিশু এখনো টিকা পায়নি, তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনতে হবে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (১১ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গে আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কেউ মারা যায়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৬৬০ এবং নিশ্চিত হামে ৯৩ জন মারা গেছে।
অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭০২ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৪ জনের। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৩ হাজার ৪৯১ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৮৯ হাজার ৭৬২ জন।