Home Lead অবিশ্বাস্য এক নাটকীয় প্রত্যাবর্তন: মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

অবিশ্বাস্য এক নাটকীয় প্রত্যাবর্তন: মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

5

স্পোর্টস ডেস্ক:

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার হাইভোল্টেজ ম্যাচে ফুটবলপ্রেমীরা সাক্ষী হলো শতাব্দীর অন্যতম সেরা এক ফুটবল নাটকের। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য রূপকথার প্রত্যাবর্তনে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ আট বা কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে এক সময় মনে হচ্ছিল বিশ্বমঞ্চে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনটি ঘটিয়ে ফেলবে ‘ফারাও’রা। তবে শেষ মুহূর্তের ‘মেসি ম্যাজিক’ আর এনজো ফার্নান্দেজের যোগ করা সময়ের বুলেট হেডে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

প্রথমার্ধেই মিশরের লিড ও মেসির পেনাল্টি মিস
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে দিতে মারমুখী ফুটবল খেলতে থাকে মিশর। ম্যাচের ১৫ মিনিটেই আসে প্রথম গোল। ডান প্রান্ত থেকে আতিয়ার ভাসানো ক্রসে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাঁকি দিয়ে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে জড়ান মিশরের ইব্রাহিম। এমিলিয়ানো মার্টিনেজের স্রেফ দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না।

গোল খেয়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া আর্জেন্টিনা ২১ মিনিটে পেনাল্টি পায়। কিন্তু খোদ অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেওয়া দুর্বল গতির শট চমৎকারভাবে রুখে দেন মিশরের গোলকিপার মোস্তফা শোবের। এরপর ৪০ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের নিশ্চিত গোলের এক শট বাতাসে ভেসে এক হাতে বাইরে ঠেলে দেন শোবের। ফলে ১-০ তে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আলবিসেলেস্তেরা।

দ্বিতীয়ার্ধে ভিএআরের নাটক ও মিশরের ব্যবধান দ্বিগুণ
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে দ্বিতীয়বার আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠিয়ে উল্লাসে মেতে উঠেছিল মিশর। তবে গোলটির ঠিক আগের মুহূর্তে মিশরের আতিয়া লিসান্দ্রো মার্টিনেজের জার্সি টেনে ধরে ফাউল করায় ভিএআরের (VAR) সাহায্যে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।

তবে সেই ধাক্কা সামলে ৬৭ মিনিটে ঠিকই ব্যবধান ২-০ করে ফেলে মিশর। আর্জেন্টিনার একটি কর্নার প্রতিহত করে কাউন্টার অ্যাটাকে গতি বাড়ান মোহাম্মদ সালাহ। রোমেরোকে কাটিয়ে তিনি পাস দেন হাসানকে। হাসানের নিখুঁত কাট-ব্যাক থেকে মাত্র ছয় গজ দূর থেকে বুলেট গতির শটে বল জালে জড়ান জিকো।

৪ মিনিটে জোড়া গোল ও ‘মেসি ম্যাজিক’
২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর খাদের কিনারা থেকে জেগে ওঠে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে মেসির নিখুঁত ক্রসে অরক্ষিত থাকা ক্রিস্টিয়ান রোমেরো চমৎকার হেডে গোল করে ব্যবধান ২-১ এ নিয়ে আসেন।

এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ৮৩ মিনিটে দেখা মেলে সেই বহুল প্রতীক্ষিত ‘লিওনেল মেসি ম্যাজিক’। ডান প্রান্ত থেকে মেসির ক্রস মিশরের রক্ষণভাগ ক্লিয়ার করতে না পারলে বাঁ প্রান্ত থেকে বল বক্সে ফেরত পাঠান লাউতারো মার্টিনেজ। হুলিয়ান আলভারেজের বুক দিয়ে নামানো আলতো ছোঁয়ার বলটিতে কোনো সময় নষ্ট না করে নিখুঁত শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন মেসি। ৪ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ম্যাচে ২-২ সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা।

যোগ করা সময়ে এনজোর অবিশ্বাস্য জয়সূচক গোল
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, ঠিক তখনই ৯০+২ মিনিটে ম্যাচের চূড়ান্ত নাটকের জন্ম দেয় আর্জেন্টিনা। ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা একটি চমৎকার ক্রস মিশরের বক্সে এলে লাফিয়ে উঠে নিখুঁত হেডে বল পোস্টের কোণায় পাঠিয়ে দেন এনজো ফার্নান্দেজ। মিশরীয় গোলকিপার শোবেরের সাধ্য ছিল না এটি আটকানোর। ৩-২ ব্যবধানের এই নাটকীয় জয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনার গ্যালারি, আর মাঠ ছাড়ে বীরোচিত রূপকথার প্রত্যাবর্তনে কোয়ার্টার ফাইনালে পা দিয়ে।