মিলি রহমান।।
চা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর একটি। গ্রিন টি ও ব্ল্যাক টি দুটিই একই উদ্ভিদ ক্যামেলিয়া সিনেনসিস থেকে তৈরি হলেও প্রক্রিয়াজাতকরণের পার্থক্যের কারণে তাদের স্বাদ, রং ও পুষ্টিগুণে উল্লেখযোগ্য ভিন্নতা দেখা যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রিন টি শরীরের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) বাড়াতে, চর্বি পোড়ানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া এটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। গ্রিন টিতে থাকা ‘এল-থিয়ানিন’ নামের অ্যামিনো অ্যাসিড মানসিক প্রশান্তি এনে একাগ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমানো, লিভারের সুরক্ষা এবং কোষের বার্ধক্যের গতি ধীর করতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
অনদিকে, ব্ল্যাকটি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে এবং রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করে হৃদ্স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক হতে পারে।
এ ছাড়া গ্রিন টির তুলনায় ব্ল্যাক টিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি দ্রুত শক্তি ও সতেজতা জোগাতে পারে। তাই অনেকেই কফির বিকল্প হিসেবে ব্ল্যাক টি বেছে নেন।
গ্রিন টির অসুবিধা
যদিও গ্রিন টির নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, তবে অতিরিক্ত পান করলে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে থাকা উচ্চমাত্রার ক্যাটেচিন উদ্ভিজ্জ উৎসের আয়রন শোষণ কমিয়ে দিতে পারে। আবার যাদের ট্যানিন বা ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের পেটে অস্বস্তি, গ্যাস্ট্রিক বা বমিভাবের মতো সমস্যা হতে পারে।
ব্ল্যাক টির সম্ভাব্য অসুবিধা
ব্ল্যাক টি অতিরিক্ত পান করলে উদ্বেগ, অস্থিরতা ও ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার প্রবণতাও বাড়তে পারে। গ্রিন টির মতো অতিরিক্ত ব্ল্যাক টি পান করলেও শরীরে আয়রন শোষণে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
কোনটি বেছে নেবেন?
আপনার লক্ষ্য যদি ওজন নিয়ন্ত্রণ, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ বা বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্রহণ হয়, তাহলে গ্রিন টি ভালো বিকল্প হতে পারে।
অন্যদিকে, দ্রুত শক্তি পেতে, হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, হজমের কার্যক্রমে সহায়তা পেতে বা গাঢ় ও তীব্র স্বাদের চা উপভোগ করতে চাইলে ব্ল্যাক টি আপনার জন্য উপযোগী হতে পারে।
কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর?
আসলে কোন চা বেশি স্বাস্থ্যকর হবে, তার নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই। এটি নির্ভর করে একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত চাহিদা, জীবনযাপন ও ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর।
যদি আপনার লক্ষ্য হয় টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া, বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্রহণ করা কিংবা বিকেলে এমন একটি পানীয় পান করা যা মনকে শান্ত রাখার পাশাপাশি মনোযোগও বাড়ায়, তাহলে গ্রিন টি ভালো পছন্দ হতে পারে।
অন্যদিকে, কফির শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কোনো পানীয় খুঁজছেন, হৃদ্স্বাস্থ্য ও হজমের যত্ন নিতে চান অথবা গাঢ় স্বাদের চা পছন্দ করেন, তাহলে ব্ল্যাক টি হতে পারে উপযুক্ত নির্বাচন।
গ্রিন টি ও ব্ল্যাক টি উভয়েরই নিজস্ব উপকারিতা ও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই যেকোনো চা-ই পান করুন না কেন, পরিমিত মাত্রায় পান করাই সবচেয়ে ভালো। অনেকের ক্ষেত্রে সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে দুই ধরনের চা পর্যায়ক্রমে পান করলে উভয়ের সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যেতে পারে।









































