Home জাতীয় ছয় জেলায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৬ জনের যাবজ্জীবন

ছয় জেলায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৬ জনের যাবজ্জীবন

0

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
দেশের ৫ জেলায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার ৪ জেলার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। এদের মধ্যে জামালপুরে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় সাতজন, খাগড়াছড়িতে মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় একজন ও নোয়াখালীতে শিশুধর্ষণের ঘটনায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া গোপালগঞ্জে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের মামলায় দুই জনের যাবজ্জীবন ও শরীয়তপুরে ছাত্রী ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা বাতিল করে দুজনকে খালাস এবং দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।আমাদের সময়ের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
জামালপুর: জামালপুরের বকশীগঞ্জে এক গৃহবধুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। মামলার অপর আসামি ইদ্রিস আলীকে খালাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আব্দুর রহিম বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেনÑ পাপ্পু, বিজু, বাদশা, জুয়েল, আশরাফুল, জসিম ও আসমত। তারা সবাই বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। খালাসপ্রাপ্ত ইদ্রিস আলীও একই উপজেলার বাসিন্দা।
খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়িতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় এক আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শায়েলা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এটিই প্রথম মামলার রায়। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঘটনার মাত্র ১১ মাস ১৪ দিনের মাথায় এ মামলার রায় দেওয়া হলো। মামলা চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষে ১০ জন এবং আসামিপক্ষে ৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের ভিত্তিতে আদালত এ সিদ্ধান্ত নেয়। মামলার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সৃজনী ত্রিপুরা।
নোয়াখালী: নোয়াখালীর চাটখিলে আলোচিত শিশু আসমা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় চাচাতো ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে জেলার বিশেষ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শাহাদাত হোসেন (২৬) উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাবুল হোসেনের ছেলে।
নোয়াখালীর নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট সেলিম শাহী বলেছেন, আদেশে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের জাজিরার আলোচিত পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রিমা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা বাতিল করে দুজনকে খালাস এবং দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার সকালে বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। খালাস পাওয়া দুজন হলেনÑ স্বপ্না বেগম ও সেলিম চৌকিদার। চুন্নু মোড়ল ও নুরু মোড়লকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ৭ মে শিশু রিমাকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে চারজনকে ফাঁসির আদেশ দেয় শরিয়তপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।
গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় প্রধান আসামি উজ্জ্বল বিশ্বাস এবং অপরাধে সহায়তার দায়ে কল্পনা বিশ্বাসকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রধান আসামিকে এক লাখ টাকা এবং সহায়তাকারীকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছেÑ ২০২০ সালে কাশিয়ানী উপজেলার তিলছড়া গ্রামের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে উত্যক্ত করতেন উজ্জ্বল বিশ্বাস। পরে একই বছরের ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় কল্পনা বিশ্বাস তালের পিঠা বানানোর কথা বলে ওই শিক্ষার্থীকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় কল্পনা বিশ্বাস অপরাধে সহায়তা করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে ২০২০ সালের ১৬ অক্টোবর কাশিয়ানী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৪ মার্চ পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০২২ সালের ১৭ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মামলাটি নবগঠিত শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। রায় ঘোষণার পর অভিযুক্তদের গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।