স্পোর্টস ডেস্ক।।
ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম উত্তপ্ত লড়াই ‘আইবেরিয়ান ডার্বি’তে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও পর্তুগাল। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বৈরথ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবলবিশ্বে।
একদিকে স্পেনের দৃষ্টিনন্দন পাসিং ফুটবল, অন্যদিকে পর্তুগালের গতিময় আক্রমণ ও তারকাখচিত স্কোয়াড- সব মিলিয়ে ম্যাচটি হতে যাচ্ছে হাইভোল্টেজ এক মহারণ। শেষ পর্যন্ত কার মুখে ফুটবে হাসি— সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
স্পেন ও পর্তুগালের লড়াই মানেই ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একই আইবেরিয়ান উপদ্বীপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এবার মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয়, যেখানে হার মানেই বিদায়। তাই এই ম্যাচে কৌশল, মানসিক দৃঢ়তা এবং ছোট ছোট মুহূর্তের সিদ্ধান্তই গড়ে দিতে পারে ফল।
শেষ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে স্পেন। পুরো ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণ তৈরির দক্ষতা এবং রক্ষণে দৃঢ়তা- সব ক্ষেত্রেই নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছে লা রোহা। অন্যদিকে, পর্তুগাল কঠিন লড়াইয়ের পর ২-১ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। তবে তাদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
স্পেনের শক্তির মূল জায়গা তাদের মিডফিল্ড। ছোট ছোট পাস, বলের দখল ধরে রাখা এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার ক্ষমতায় তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তরুণ তারকাদের গতির সঙ্গে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয় স্পেনকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলেছে। অন্যদিকে পর্তুগালের বড় ভরসা দ্রুত পাল্টা আক্রমণ, শক্তিশালী মিডফিল্ড এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্য। সুযোগ পেলেই ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তাদের আক্রমণভাগের। স্পেনের রয়েছে একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। তাদের মধ্যে স্ট্রাইকার লামিনে ইয়ামাল অন্যতম। আরও আছে- পেদ্রি, গাভি, রদ্রি, ওলমো, নিকো আর ওয়ারাবাজালের মতো খেলোয়াড়। স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন ইতোমধ্যে বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়েছেন। ৫১৯ মিনিট গোলবার আগলে রেখে।
অন্যদিকে পর্তুগাল বিশ্বকাপে ফেবারিট দল হিসেবে এলেও এখন পর্যন্ত আশানুরূপ পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি। দলের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তিন গোল করলেও খেলার ধরন ছিল গড়পড়তা। এখনও দল হিসেবে খেলতে পারছে না কোচ রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যরা। এই ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হবে প্রজন্মের লড়াইও। একদিকে অভিজ্ঞ তারকাদের নেতৃত্বে পর্তুগাল, অন্যদিকে তরুণদের উচ্ছ্বাসে ভর করে এগিয়ে চলা স্পেন। নকআউট ম্যাচ হওয়ায় শুরু থেকে দুদলই সতর্ক থাকবে। ফলে ম্যাচের প্রথম ভাগে মাঝমাঠের লড়াই এবং বলের দখল নিয়ে টানটান উত্তেজনা দেখা যেতে পারে।
ইতিহাসও বলছে, স্পেন-পর্তুগাল দ্বৈরথে খুব কম ব্যবধানেই ফল নির্ধারিত হয়। দুদলের আগের বেশির ভাগ লড়াই ছিল হাড্ডাহাড্ডি, যেখানে এক মুহূর্তের ভুল কিংবা একঝলক ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ২০১০ সালের একমাত্র দেখায় স্পেন ১-০ ব্যবধানে জিতে শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতেছিল।
সবমিলিয়ে এটি শেষ ষোলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি হওয়ার অপেক্ষায়। স্পেনের সংগঠিত ফুটবল নাকি পর্তুগালের কার্যকর পাল্টা আক্রমণ— কোন কৌশল শেষ পর্যন্ত সফল হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ছোট একটি ভুল কিংবা একটি অসাধারণ মুহূর্তই হয়তো নির্ধারণ করবে, আইবেরিয়ান ডার্বিতে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কার হাতে উঠবে।
স্পেন ও পর্তুগাল এ পর্যন্ত মোট ৪১ বার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে স্পেনের জয় ১৭টি। পর্তুগালের ৭টি। বাকি ১৭টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সবশেষ মোকাবিলায় ২০২৫ সালের উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুদল। ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে ড্র ছিল, পরে টাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জেতে পর্তুগাল। বিশ্বকাপে ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন ১-০ গোলে হারায় পর্তুগিজদের। আর ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ৩-৩ গোলে ড্র করেছিল দুদল।











































