স্পোর্টস ডেস্ক।।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পেনাল্টি পেয়েছিল ব্রাজিল। জোড়া গোল করে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ভিনিসিউস জুনিয়রই বলের সামনে দাঁড়াবেন এমনটাই মনে করেছিলেন সবাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি নিতে এগিয়ে যান ব্রুনো গিমারাইস। তার শট ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক। সেই ব্যর্থতার পর ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
পেনাল্টি নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচের পর শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। সমালোচনার মুখে পড়েন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। প্রশ্ন ওঠে, দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ভিনিসিউসকে কেন দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
তবে ম্যাচ শেষে ভিনিসিউস স্পষ্ট করে জানান, এটি ছিল পুরোপুরি কোচের সিদ্ধান্ত।
২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বলেন, ‘কোচের সিদ্ধান্ত ছিল ব্রুনো গিমারাইস পেনাল্টি নেবে। ম্যাচের আগেই তিনি ঠিক করে রেখেছিলেন কে পেনাল্টি নেবে এবং সেই পছন্দ ছিল ব্রুনো। আমি কখনোই স্বার্থপর খেলোয়াড় নই। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়াও আমার লক্ষ্য ছিল না। ব্রুনো আমার চেয়ে ভালো পেনাল্টি নেয়, তাই কোচ তাকে বেছে নিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে ভাবতে পারেন আমি দায়িত্ব এড়িয়ে গেছি। কিন্তু সেটা সত্য নয়। কোচ যখন আমাকে দায়িত্ব দেন, আমি সব সময়ই পেনাল্টি নিই, যেমন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে নিই। দায়িত্ব নিতে আমি কখনোই অস্বীকার করিনি।’
অন্যদিকে আনচেলত্তি জানান, পেনাল্টি নেওয়ার জন্য ব্রাজিল দলের একটি নির্ধারিত ক্রম রয়েছে, যা দীর্ঘদিনের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
ব্রাজিল কোচ বলেন, “পেনাল্টি নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রায় এক বছর ধরে গবেষণা করেছি। সবার ওপরে ছিল রাফিনিয়া, কিন্তু সে চোটের কারণে খেলতে পারেনি। এরপর ছিল নেইমার ও ইগর থিয়াগো। তাদের পরেই ছিল ব্রুনো গিমারাইস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে আমাদের বিবেচনায় ব্রুনোই ছিল সেরা, তাই তাকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।”
পরিসংখ্যানও আনচেলত্তির সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলছে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ভিনিসিউস ১৯টি পেনাল্টির মধ্যে ১৩টিতে গোল করেছেন, ছয়টিতে ব্যর্থ হয়েছেন। আর ব্রাজিলের জার্সিতে পাওয়া তিনটি পেনাল্টির মধ্যে মাত্র একটিতে সফল হয়েছেন তিনি। এ কারণেই কোচিং স্টাফের পেনাল্টি তালিকায় তিনি বেশ নিচে ছিলেন।
তবে গিমারাইসের ব্যর্থতার জন্য তাকে দায়ী করতে রাজি নন আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘ফুটবলে পেনাল্টি মিস হতেই পারে। আজ সেটা আমাদের সঙ্গেই হয়েছে।’
উল্লেখ্য, ম্যাচের শুরুতে পাওয়া সেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু সুযোগ হাতছাড়া করার পর শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ষোল থেকেই বিদায় নেয় ব্রাজিল। ১৯৮৬ সালের পর এবারই প্রথম টাইব্রেকারের বাইরে বিশ্বকাপে নির্ধারিত সময়ের পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলো সেলেসাওরা। পাশাপাশি গত ৩৬ বছরের মধ্যে এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে দ্রুত বিশ্বকাপ বিদায়।











































