Home খেলাধুলা অবসর ঘোষণায় নেইমার বললেন, এখানেই শেষ

অবসর ঘোষণায় নেইমার বললেন, এখানেই শেষ

3


স্পোর্টস ডেস্ক

নরওয়ের কাছে হারে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পরই এলো দেশটির ফুটবলে এক যুগের সমাপ্তির খবর। জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার।

ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় নেইমার জানান, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। তবে তিনি মনে করেন, জাতীয় দলের হয়ে নিজের পথচলা শেষ করার সময় এসে গেছে।

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন,‘আমি চেষ্টা করেছি। সত্যিই সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। জাতীয় দলের হয়ে আমার যাত্রা এই স্টেডিয়ামেই শুরু হয়েছিল, আর এখানেই তার সমাপ্তি হলো। এখন সব শেষ।’

ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের দীর্ঘ পথচলা কোটি কোটি সমর্থকের স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে।

বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে না পারলেও নিজের প্রজন্মের অন্যতম সেরা ও প্রতিভাবান ফুটবলার হিসেবে বিদায় নিচ্ছেন তিনি। অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত, অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং সমৃদ্ধ এক উত্তরাধিকার রেখে গেলেন নেইমার, যিনি দীর্ঘদিন ব্রাজিলের ফুটবলের মুখ হয়ে ছিলেন।


বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। আবহাওয়ার কারণে এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচে ছিল নাটকীয়তা, লাল কার্ড, পেনাল্টি এবং পাঁচটি গোল।

মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে ৮০ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক ছিলেন জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইন। বেলিংহাম জোড়া গোল করেন, আর একটি গোল করেন কেইন।

এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোকে হারানো প্রথম দল হলো ইংল্যান্ড। পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এই মাঠে জয় পাওয়া মাত্র তৃতীয় দলও তারা।

কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হবে নরওয়ে। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্লিং হালান্ডদের মুখোমুখি হবে তারা।

ম্যাচ শেষে হ্যারি কেইন বলেন, ‘এটি ছিল অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ। মাঠের পরিবেশ, দর্শকদের চাপ—সবকিছুই আমাদের বিপক্ষে ছিল। তবু আমরা জয়ের পথ খুঁজে নিয়েছি।’

ম্যাচের শুরুতে মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন বেলিংহাম। তবে বিরতির আগে হুলিয়ান কিনিয়োনেস একটি গোল শোধ করে মেক্সিকোকে ম্যাচে ফেরান।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও নাটকীয়তা যোগ হয়। ৫৪তম মিনিটে ভিডিও সহায়তায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ইংল্যান্ডের ডান প্রান্তের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় জ্যারেল কোয়ানসাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ইংল্যান্ডকে।

তবে কয়েক মিনিট পরই পেনাল্টি থেকে গোল করে ইংল্যান্ডের ব্যবধান আবার বাড়িয়ে দেন কেইন। মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রাঙ্গেল প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড।

এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৪তম গোল করেন কেইন। এতে তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় পশ্চিম জার্মানির কিংবদন্তি গের্ড মুলারের সমান হয়ে যান।

তবে নাটকীয়তা এখানেই শেষ হয়নি। কিছুক্ষণ পর ভিডিও সহায়তায় দেখা যায়, কেইন প্রতিপক্ষের ব্রায়ান গুতিয়েরেসকে ফাউল করেছেন। ফলে পেনাল্টি পায় মেক্সিকো। রাউল হিমেনেস সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরাতে পারেনি স্বাগতিকরা।

১৯৮৬ সালের পর এবারও শেষ ষোলোর বাধা পেরোতে ব্যর্থ হলো মেক্সিকো। নিজেদের মাটিতে খেলেও তারা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি।

অন্যদিকে, কানাডা আগেই বিদায় নেওয়ায় তিন স্বাগতিক দেশের মধ্যে এখন টিকে আছে শুধু যুক্তরাষ্ট্র। শেষ ষোলোর ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বেলজিয়াম।