Home আঞ্চলিক ইদ্দতকাল চলাকালে বিয়ে, দাকোপে কাজীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ

ইদ্দতকাল চলাকালে বিয়ে, দাকোপে কাজীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ

84

জাহিদুর রহমান।।

খুলনার দাকোপ উপজেলার চালনা পৌরসভা এলাকার এক নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ইদ্দতকাল চলাকালে বিয়ে রেজিস্ট্রি এবং নিকাহনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা রেজিস্ট্রার, খুলনা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আতাউল্লাহ হাদী নামের এক ভুক্তভোগী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দাকোপ উপজেলার সুতারখালী এলাকার আবু সাইদ সরদার ও তার স্ত্রী সুমি খাতুনের মধ্যে গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মোবারাৎ তালাক রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। অভিযোগকারীর দাবি, ইসলামী শরিয়ত ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী তালাকের পর নির্ধারিত ইদ্দতকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই নারী পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন না।

কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, একই নিকাহ রেজিস্ট্রার আলহাজ্ব জি এম ইমদাদুল হক ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ইদ্দতকাল চলাকালেই নতুন একটি বিয়ে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন। এ সময় নিকাহনামার ৫ নম্বর দফায় কনের বৈবাহিক অবস্থা “তালাকপ্রাপ্তা” না লিখে “কুমারী” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়।

অভিযোগকারী আতাউল্লাহ হাদী তার আবেদনে উল্লেখ করেন, নিকাহ রেজিস্ট্রার কনের পক্ষ ও সাক্ষীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে তথ্য গোপনের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করেছেন, যা “প্রতারণামূলক কাজ” (fraud practice) হিসেবে বিবেচিত।

তিনি জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগপত্রের অনুলিপি জেলা প্রশাসক, দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, দাকোপ থানা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী আতাউল্লাহ হাদী বলেন, “আমার সঙ্গে প্রতারণা করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রেখে এই বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচার দাবি করছি।”

অন্যদিকে অভিযুক্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার আলহাজ্ব জি এম ইমদাদুল হক বলেন, এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। কনের পক্ষ পূর্বের তালাকের তথ্য গোপন করেছিল। বিষয়টি জানা থাকলে এভাবে নিকাহ রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হতো না বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে, প্রতিবেদকের কাছে আসা একটি অডিও কল রেকর্ডে সুমি খাতুনের মা-কে ফোনালাপে বলতে শোনা যায়, একটি ছেলে পাওয়া গেছে, যিনি কম্পিউটার কাজ করেন এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছল—এ বিষয়ে পরে জানানো হবে।

অন্যদিকে, সুমি খাতুনের পরিবারের পক্ষ থেকে আতাউল্লাহ হাদীর বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি এবং কাবিনের অর্থ আদায়ের চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, ইদ্দতের বিধান উপেক্ষা করে বা তথ্য গোপন করে বিয়ে সম্পন্ন করা শরিয়তসম্মত নয় এবং এটি আইনগত ও নৈতিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।