স্পোর্টস ডেস্ক।।
বিশ্বকাপ শুরুর আর এক মাসও বাকি নেই। অথচ এখনও বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশগুলোর একটি ভারত বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক কোনো সম্প্রচারকারী ঠিক করতে পারেনি।
অন্যদিকে প্রতিবেশী চীন ফিফার কাছ থেকে বড় অঙ্কের ছাড়ে নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব। গত ১৫ মে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপ চক্রের জন্য ফিফার সঙ্গে বহুবর্ষী চুক্তি করে।
এর মধ্যে ২০২৬ পুরুষ বিশ্বকাপের একচেটিয়া সম্প্রচারস্বত্ব তারা পেয়েছে ৬০ মিলিয়ন ডলারে। শুরুতে চীনা বাজারে দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে ৩০০ মিলিয়ন ডলার চেয়েছিল ফিফা।
শেষ পর্যন্ত সেই মূল্য থেকে প্রায় ৮০ শতাংশ কমে চুক্তি করতে হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিকে। এতে সম্ভাব্য আয়ে বড় ধাক্কা খেতে হয়েছে ফিফাকে।
ফিফার এমন ছাড় দেওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণও সামনে এসেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। স্বাগতিক দেশগুলোর সঙ্গে বেইজিংয়ের সময়ের পার্থক্য প্রায় ১৫ ঘণ্টা। ফলে বেশির ভাগ ম্যাচই চীনে গভীর রাত বা ভোরে সম্প্রচার হবে, যা বিজ্ঞাপন আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ছাড়া চীনের জাতীয় দলও এবার বিশ্বকাপে জায়গা করতে পারেনি। ফলে দেশটির সাধারণ দর্শকদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে সম্প্রচারস্বত্ব থেকে ক্ষতি কিছুটা সামাল দিচ্ছে চীনা করপোরেট স্পন্সররা। প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা লেনোভো ফিফার শীর্ষ পর্যায়ের অংশীদার। পাশাপাশি দুগ্ধপণ্য প্রতিষ্ঠান মেংনিউ ও ইলেকট্রনিকস কোম্পানি হিসেন্সও স্পন্সর হিসেবে যুক্ত আছে।
চীনের এই চুক্তির প্রভাব পড়েছে ভারতীয় বাজারেও। এখনও ২০২৬ বিশ্বকাপের কোনো আনুষ্ঠানিক সম্প্রচারকারী পায়নি ভারত। মূলত ফিফা ও জিওস্টারের মধ্যে মূল্য নিয়ে বড় ব্যবধান থাকায় আলোচনা আটকে আছে।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ডিজিটাল সম্প্রচারস্বত্ব কিনেছিল ভায়াকম১৮, যা বর্তমানে জিওস্টার নেটওয়ার্কের অংশ। সে সময় প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিল তারা। কাতার বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ও রাতের দিকে হওয়ায় বিজ্ঞাপন থেকে ভালো আয়ও হয়েছিল।
তবে ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপ মিলিয়ে ভারতে শুরুতে ১০০ মিলিয়ন ডলার চেয়েছিল ফিফা। ক্রেতা না পাওয়ায় পরে শুধু ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য মূল্য নামিয়ে আনা হয় ৩৫ মিলিয়ন ডলারে।
জিওস্টার অবশ্য ২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি দিতে রাজি হয়নি। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১৬৭ কোটি রুপি। ফিফা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় আলোচনা স্থবির হয়ে আছে। সোনি’ও প্রাথমিক আলোচনা করলেও বিজ্ঞাপন বাজারজাত করার পর্যাপ্ত সময় না থাকায় শেষ পর্যন্ত সরে যায়।
ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সীমিত। উত্তর আমেরিকায় হওয়া আসরের ১০৪ ম্যাচের মধ্যে ৮৭ শতাংশের বেশি ম্যাচই ভারতে মধ্যরাতের পর বা ভোরে সম্প্রচার হবে। মাত্র ১৩টি ম্যাচ ভারতীয় দর্শকদের জন্য সুবিধাজনক সময়ে পড়ছে।
এ ছাড়া ক্রিকেটের তুলনায় ফুটবলে বিজ্ঞাপনের সুযোগও কম। ক্রিকেটে প্রতি ওভার, উইকেট বা কৌশলগত বিরতিতে বিজ্ঞাপন দেখানো যায়। ফুটবলে টানা ৪৫ মিনিট খেলা চলায় সেই সুযোগ সীমিত। ফলে ৩৫ থেকে ৪০ মিলিয়ন ডলারের সম্প্রচারস্বত্বের অর্থ তোলা কঠিন বলে মনে করছে ভারতীয় সম্প্রচারকারীরা।
চীনের সঙ্গে বড় ছাড়ে চুক্তির পর এখন আলোচনায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ভারতীয় পক্ষ। ১১ জুন বিশ্বকাপ শুরুর আগে ১৪০ কোটির বাজারে সম্প্রচার সংকট এড়াতে শেষ পর্যন্ত ফিফাকে জিওস্টারের ২০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব মেনে নিতে হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।











































