স্টাফ রিপোর্টার।।
বিএনপি সরকারের তিন মাস পূর্ণ হতে চললেও খুলনা মহানগরী ও জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে এখনও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ কাটেনি।
সম্প্রতি খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, হামলা ও গুলির ঘটনা নতুন করে আতঙ্ক বাড়িয়েছে। বিশেষ করে সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানার কিছু এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ গ্রুপগুলোর তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে।
সর্বশেষ রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যায় সোনাডাঙ্গা থানার পশ্চিম বানিয়াখামার এলাকায় ব্যবসায়ী আলী নুর ডাবলুকে গুলি করার ঘটনাও নগরবাসীর মধ্যে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রকাশ্যে গুলি চালানোর মতো ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
এছাড়া নগরীর ফুটপাত, বাজার ও পরিবহন খাতে এখনও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের একাংশ বলছেন, প্রকাশ্য চাঁদাবাজি কিছুটা কমলেও গোপনে চাপ সৃষ্টি ও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
খুলনায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বিভিন্ন এলাকায় উঠতি বয়সী তরুণদের গ্রুপভিত্তিক সংঘর্ষ, মাদকসেবন ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় নগরীর কিছু এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা বলা হলেও অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে দাবি স্থানীয়দের। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের টহল বাড়ানো হলেও অপরাধীদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অপরাধচক্র ভাঙতে হলে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত অভিযান এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শুধু অভিযান নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে না।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। তবে অপরাধ দমনে জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধও জরুরি বলে মনে করছেন তারা।











































