Home জাতীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা জোরদার : সচিবালয় থেকে সরছে ১৬৯ পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা জোরদার : সচিবালয় থেকে সরছে ১৬৯ পুলিশ

26


খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।


প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয়কে নিশ্ছিদ্র করা এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কেন্দ্রের সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি এড়াতে দেশের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে বড় ধরনের রদবদল ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে নিয়োজিত এবং বিভিন্ন অনিয়ম, গাফিলতি বা অদক্ষতার দায়ে চিহ্নিত অন্তত ১৬৯ জন পুলিশ সদস্যকে একযোগে বদলি করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ‘গানম্যান’ ও গেটের নিরাপত্তায় থাকা এই সদস্যদের তালিকা চূড়ান্ত করে ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপি কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, বদলির তথ্য পেয়ে পুলিশ সদস্যদের অনেকেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তদবির শুরু করেছেন। কেউ কেউ আবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে একই পদে বহাল থাকার অনুরোধ পাঠাচ্ছেন। তবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সচিব এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছেন এবং এখানে কোনো ধরনের সুপারিশের সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সূত্রটি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়মিত রদবদল একটি স্বাভাবিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত প্রক্রিয়া। দীর্ঘ সময় একই স্থানে দায়িত্ব পালন করলে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তি বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত যোগাযোগ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে; যা পরবর্তীতে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস কিংবা নিরাপত্তা দুর্বলতার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো সচিবালয় থেকেই পরিচালিত হওয়ায়, এখানে নিয়োজিত নিরাপত্তা সদস্যদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য সুরক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিবালয়ে ৫ আগস্টের (২০২৪) আগে নিয়োজিত ১৬৯ জন পুলিশ সদস্যকে একযোগে বদলির উদ্যোগ নিয়েছে। গেট ও বিভাগীয় নিরাপত্তা এবং পদস্থ কর্মকর্তাদের ‘গানম্যান’ হিসেবে নিয়োজিত এই সদস্যদের তালিকা চূড়ান্ত করে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পুরো নিরাপত্তাব্যবস্থাকে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ভিত্তিক আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা ও উন্নত স্ক্যানিং প্রযুক্তির মাধ্যমে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে

তবে, নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাদের পরামর্শ— শুধুমাত্র সময় বা কাল নির্ধারণ করে ঢালাওভাবে বদলি না করে, প্রতিটি সদস্যের সার্ভিস রেকর্ড, পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা এবং অতীত কর্মকাণ্ড মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। অন্যথায় দক্ষ, সৎ ও অভিজ্ঞ সদস্যরাও অযথা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, যা পেশাদারিত্বের জন্য ক্ষতিকর।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে নিয়োগ পাওয়া এবং বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত ১৬৯ জন পুলিশ সদস্যকে একযোগে বদলির প্রক্রিয়া চলছে। সচিবালয়ের বিভিন্ন গেট, মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্য এবং সিনিয়র কর্মকর্তাদের ‘গানম্যান’ হিসেবে কর্মরতদের মধ্য থেকেই মূলত এই ১৬৯ জনকে বাছাই করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র থেকে আরও জানা গেছে, নতুন পদায়নের ক্ষেত্রে দক্ষ, চৌকস ও সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্সপ্রাপ্ত (গোয়েন্দা ছাড়পত্র) সদস্যদের অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনে অফিস করায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে অতিদ্রুত কনস্টেবল, নায়েক, এএসআই, এসআই ও ইন্সপেক্টর পদে এই পরিবর্তন আসতে পারে।

শুধু পুলিশ সদস্যদের বদলি করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। সচিবালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও একটি কার্যকর রোটেশন নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। কারণ প্রশাসনিক তথ্য, নীতিগত সিদ্ধান্ত ও অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের বড় অংশ এসব কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। ফলে নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার প্রশ্নে একটি সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি- অপরাধ বিশ্লেষক মো. সাখাওয়াত হোসেন


অবশ্য, এই বদলি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সচিবালয়ে কর্মরত এক সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) বলেন, সচিবালয়ে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিলেন। তারা তো আর মাঠে ছিলেন না যে কাউকে গুলি করেছেন কিংবা অন্যায়ভাবে থানায় নিয়ে শারীরিক বা মানসিক অত্যাচার করেছেন। এগুলোর কিছুই তারা করেননি। যাদের গণহারে বদলি করা হচ্ছে, এদের মধ্যে অনেক দক্ষ এবং সৎ কর্মকর্তা আছেন। সরকার যদি সবার সার্ভিস রেকর্ড যাচাই করে এরপর পদায়ন করত, তাহলে ভালো হতো। তা না হলে কয়েকজনের ভুলের জন্য অনেককে ভুক্তভোগী হতে হবে।


অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এটি সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বদলি করা হচ্ছে। এক জায়গায় তো কারও পাঁচ-ছয় বছর বা তার অধিক সময় থাকার সুযোগ নেই। বদলি বা পদোন্নতি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া; সুতরাং এতে আপত্তির কী আছে? তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিবেচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিনিয়র সচিব এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। এখানে কোনো সুপারিশের সুযোগ নেই।


মন্ত্রণালয়ের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, যাদের বদলি করা হবে ইতোমধ্যে তাদের তথ্য ডিএমপি কমিশনার ও আইজিপি বরাবর পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তাদের যোগদানের তারিখ এবং সার্ভিস রেকর্ড যাচাই-বাছাই করেই এই সুপারিশ করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর বা ডিএমপি কর্তৃপক্ষ এগুলো বিবেচনায় নিয়ে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমলাদের বদলির দাবি

এদিকে, পুলিশ সদস্যদের বদলির ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, শুধু পুলিশ কেন, মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘদিন ধরে যেসব কর্মকর্তা কাজ করছেন তাদের কেন বদলি করা হয় না? দীর্ঘদিন এক জায়গায় থাকার ফলে একদিকে আমলারা যেমন বেপরোয়া হয়ে পড়েন, তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের সঙ্গে তাদের সরাসরি ব্যক্তিগত যোগাযোগ গড়ে ওঠে। তাদের হাতেই থাকে সরকারের পরিকল্পনা এবং ভালো-মন্দের সকল রেকর্ড; ক্ষেত্রবিশেষে তারা এসবের সহযোগীও হন। ফলে শুধু পুলিশ সদস্যদের নয়, বরং সচিবালয়ে দীর্ঘদিন ধরে গেড়ে বসা কর্মকর্তাদেরও বদলির নীতিমালার আওতায় আনা প্রয়োজন। এতে সরকারের গোপন বিষয় বিরোধী দলের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা আরও কমে যাবে।

নতুন পদায়নের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ‘সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স’ বা গোয়েন্দা ছাড়পত্র এবং কারিগরি দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত সচিবালয়ে অফিস করায় এবং রাষ্ট্রীয় নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোর গোপনীয়তা বজায় রাখতে এই পরিবর্তন কার্যকর করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন একই স্থানে দায়িত্ব পালন করলে ব্যক্তিগত যোগাযোগ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে, গণহারে বদলির কারণে যেন অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ সদস্যরা অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন-রোটেশন প্রথার পক্ষে বিশেষজ্ঞরা

জাতীয় নিরাপত্তা ও সমসাময়িক ঘটনার বিশ্লেষক এবং র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সচিবালয় রাষ্ট্রের সবচেয়ে স্পর্শকাতর প্রশাসনিক কেন্দ্র। এখানে দীর্ঘদিন একই ব্যক্তিদের দায়িত্বে রাখলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের নির্দিষ্ট সময় পর রোটেশনের (পর্যায়ক্রমিক বদলি) আওতায় আনা হয়। তবে, এই প্রক্রিয়ায় অবশ্যই সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা, অতীত রেকর্ড ও সততার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সচিবালয়কেন্দ্রিক হওয়ায় এখানে সর্বোচ্চ মাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। নতুন করে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও গোয়েন্দা যাচাই আরও শক্তিশালী করা উচিত। তবে, গণহারে বদলির কারণে যেন অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত রোটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। দীর্ঘদিন একই জায়গায় দায়িত্ব পালন করলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব, অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ এবং তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই নিরাপত্তা কাঠামোতে নির্দিষ্ট সময় পর পরিবর্তন আনা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি চর্চা।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সচিবালয়কেন্দ্রিক হওয়ায় এখানে সর্বোচ্চ মাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। নতুন করে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও গোয়েন্দা যাচাই আরও শক্তিশালী করা উচিত। তবে, গণহারে বদলির কারণে যেন অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন- লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম, র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান


‘তবে, শুধু পুলিশ সদস্যদের বদলি করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। সচিবালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও একটি কার্যকর রোটেশন নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। কারণ প্রশাসনিক তথ্য, নীতিগত সিদ্ধান্ত ও অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের বড় অংশ এসব কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। ফলে নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার প্রশ্নে একটি সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।’


এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে সচিবালয়ে অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং অবৈধ পণ্য বা বিপজ্জনক যন্ত্র নিয়ে প্রবেশ ঠেকাতে সচিবালয়ের পুরো নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামোয় ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় সচিবালয়ে প্রবেশকারী যানবাহনে মাদক ও অস্ত্র শনাক্তে উন্নতমানের স্ক্যানিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বসানো হবে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ভিত্তিক আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা, যা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণে সহায়তা করবে।

নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে সচিবালয়ে প্রবেশের পাস ব্যবস্থাতেও আনা হচ্ছে বড় পরিবর্তন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দর্শনার্থীদের জন্য ইস্যু করা পাস নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কার্যকর থাকবে। ফলে একজন কর্মকর্তা প্রয়োজন অনুযায়ী কেবল কয়েক ঘণ্টার জন্য কোনো দর্শনার্থীকে পাস দিতে পারবেন। এতে সচিবালয়ে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ কমার পাশাপাশি নিরাপত্তা নজরদারি আরও অনেক বেশি কার্যকর হবে।