Home আঞ্চলিক চালক নেই ৩ বছর, খুলনায় নষ্ট হচ্ছে টিকাবাহী আধুনিক গাড়ি

চালক নেই ৩ বছর, খুলনায় নষ্ট হচ্ছে টিকাবাহী আধুনিক গাড়ি

15

স্টাফ রিপোর্টার।।


করোনাভাইরাস মহামারির সময় টিকা সরবরাহ ব্যবস্থাকে গতিশীল করতে বরাদ্দ দেয়া একটি আধুনিক এসি গাড়ি প্রায় তিন বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। চালক নিয়োগ না দেয়ায় এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি সম্পদ এখন কার্যত অচল ও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।


খুলনা স্বাস্থ্য অধিদফতরের কার্যালয়ের সামনে পড়ে থাকা এই গাড়িটি ২০২৩ সালের মার্চ মাসে সেখানে আনা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গাড়িটি একবারও টিকা পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হয়নি।

জানা গেছে, এর জন্য এখন পর্যন্ত কোনো চালক নিয়োগ দেয়া হয়নি। ফলে টিকা বা স্বাস্থ্যসেবা সরঞ্জাম পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্য থাকলেও বাস্তবে এটি কেবল দাঁড়িয়ে থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কার্যালয় ও একই ভবনের অন্যান্য দফতরের কর্মচারীরা জানান, তারা কখনও গাড়িটিকে চলতে দেখেননি। দীর্ঘদিন একই স্থানে পড়ে থাকায় গাড়ির ব্যাটারি, ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিয়মিত ব্যবহার না থাকায় এটি এখন অকেজো হয়ে পড়ার পথে।

খুলনা স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রশাসক মো. জাহাতাব হোসেন জানান, গাড়িটি ২০২৩ সালের মার্চে খুলনায় আনার পর থেকে একবারের জন্যও ব্যবহার হতে দেখেননি তিনি। মাঝে মাঝে গাড়িটি হুইল পাউডার দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার রাখা হয় এবং কয়েকবার জ্বালানি দিয়ে ইঞ্জিন চালু করে রাখা হয়। তবে নিয়মিত কার্যক্রমে এর কোনো ব্যবহার নেই।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাড়িটি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে প্রক্রিয়াটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ও জনবল নিশ্চিত করা গেলে গাড়িটি পুনরায় চালু করে জেলার বিভিন্ন স্থানে টিকা ও স্বাস্থ্যসেবা সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহার করা সম্ভব।’

স্থানীয়দের মতে, সরকারি সম্পদের এমন দীর্ঘ অব্যবহার শুধু অর্থের অপচয়ই নয়, বরং জনস্বাস্থ্য সেবার কার্যকারিতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাদের দাবি, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলে এ ধরনের যানবাহন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।

তথ্য বলছে, শুধু খুলনাতেই নয়, দেশের আটটি বিভাগীয় শহরেই একই সময়ে এ ধরনের গাড়ি সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলো একইভাবে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে পুরো ব্যবস্থাপনাই এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।