স্পোর্টস ডেস্ক।।
ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই তো টানটান উত্তেজনা, কিন্তু এবার সেই উত্তেজনার পারদ চড়াতে যোগ হচ্ছে গ্ল্যামারের নতুন তড়কা। ফিফা নিশ্চিত করেছে, আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফ-টাইমে মঞ্চ কাঁপাবেন পপ সম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা, লাতিন কুইন শাকিরা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটিএস। সুপার বোলের আদলে তৈরি এই জমকালো বিরতি অনুষ্ঠানটি কিউরেট করবেন কোল্ডপ্লে-এর ক্রিস মার্টিন।
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইনস্টাগ্রামে এই ঘোষণা দিয়ে একে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়া আসরের জন্য এটি একটি যোগ্য আয়োজন হতে যাচ্ছে। তবে এই রাজকীয় আয়োজন নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগেরও সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত ফুটবল ম্যাচের বিরতি ১৫ মিনিটের হয়, কিন্তু এত বড় মাপের মিউজিক শো করতে গেলে বিরতির সময়সীমা অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। গত বছর কোপা আমেরিকা এবং ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে একই স্টেডিয়ামে হাফ-টাইম শো হওয়ার কারণে বিরতি অনেক লম্বা হয়ে গিয়েছিল, যা নিয়ে তখন সমালোচনাও হয়েছিল।
শুধু মাঠের ভেতরেই নয়, মাঠের বাইরেও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে চায় ফিফা। ইনফান্তিনো জানান, বিশ্বকাপের ফাইনাল উইকএন্ডে নিউইয়র্কের বিখ্যাত ‘টাইম স্কয়ার’ পুরোপুরি নিজেদের দখলে নেবে ফিফা। সেখানে বিশেষ ফ্যান জোন এবং নানা প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ৪৮ দলের বিশাল কর্মযজ্ঞ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো জুড়ে বিস্তৃত থাকবে।

বিশ্বকাপের সাথে শাকিরার প্রেম অনেক পুরোনো। ২০১০ সালের ‘ওয়াকা ওয়াকা’র পর এবারও তিনি নিয়ে আসছেন নতুন অফিসিয়াল গান ‘দাই দাই’। নাইজেরিয়ান শিল্পী বার্না বয়ের সাথে মিলে তৈরি এই গানটির টিজার ইতোমধ্যেই শাকিরার ইনস্টাগ্রামে ঝড় তুলেছে। ব্রাজিলের আইকনিক মারাকানা স্টেডিয়ামে শ্যুটিং করা এই ভিডিওতে শাকিরার হাতে দেখা গেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ‘ট্রিওন্ডা’।
তবে এই পুরো জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের পেছনে রয়েছে একটি মহৎ উদ্দেশ্য। এই হাফ-টাইম শো থেকে প্রাপ্ত অর্থ ফিফার ‘গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’-এ জমা হবে। যার লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা।
২০০৬ এবং ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে পারফর্ম করার পর এবার হ্যাটট্রিক করতে যাচ্ছেন শাকিরা। লাতিন ছন্দের জাদুকরী এই গায়িকা এবং বিটিএস-এর তারুণ্য ও ম্যাডোনার আভিজাত্য—সব মিলিয়ে ১৯ জুলাইয়ের রাতটি কেবল ফুটবলের জন্য নয়, সংগীত ইতিহাসের জন্যও এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল পেজ থেকে একটি বার্তাই এখন সবার মুখে মুখে- ‘আমরা প্রস্তুত!’
ফুটবল মাঠে গোল আর ড্রিবলিংয়ের পাশাপাশি এবার পপ আর ড্যান্সের ছন্দে মেতে উঠবে মেটলাইফ স্টেডিয়াম। সময়ের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ফিফা কীভাবে এই বিশাল মেগা-ইভেন্টটি সফল করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে ক্রিস মার্টিনের জাদুকরী ছোঁয়ায় এই শো যে দর্শকদের পয়সা উসুল করবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।










































