Home জাতীয় ‘লুকানো লবণ’ হয়ে উঠছে নীরব ঘাতক, বছরে প্রাণ হারাচ্ছে ২৪ হাজার মানুষ

‘লুকানো লবণ’ হয়ে উঠছে নীরব ঘাতক, বছরে প্রাণ হারাচ্ছে ২৪ হাজার মানুষ

3


খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।


প্রতিদিনের খাবারে অজান্তেই অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করছেন দেশের মানুষ। বিশেষ করে চিপস, চানাচুর, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, স্যুপ, আচার ও বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবারে থাকা ‘লুকানো লবণ’ এখন বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

বিশ্ব লবণ সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দৈনিক গড়ে প্রায় ৯ গ্রাম লবণ গ্রহণ করেন। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী একজন মানুষের দিনে ৫ গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ মানুষ শুধু রান্নার খাবার থেকেই নয়, বরং প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবারের মাধ্যমে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ করছেন। এসব খাবারের অনেকগুলোতে লবণের পরিমাণ এত বেশি যে নিয়মিত খেলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি জটিলতা ও পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আয়োজিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ এখন বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম বড় হুমকি। এটি শুধু রক্তচাপই বাড়ায় না, বরং নানা অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আরও পড়ুন

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট আহমাদ খাইরুল আবরার জানান, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে। এর মধ্যে বড় একটি অংশের পেছনে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ দায়ী।

এদিকে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, অনেক খাবারে ‘লুকায়িত লবণ’ থাকে, যা সাধারণ ভোক্তারা বুঝতেই পারেন না। এমনকি মিষ্টি স্বাদের কিছু খাবারেও অতিরিক্ত সোডিয়াম থাকে, ফলে মানুষ অজান্তেই ঝুঁকিতে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্যাকেটজাত খাবারের মোড়কে বাধ্যতামূলক সতর্কবার্তা যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে লবণের মাত্রা কমানো, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্কুল-কলেজ থেকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. সাইদুল আরেফিন বলেন, শিশু ও তরুণদের মধ্যে প্যাকেটজাত খাবারের প্রতি নির্ভরতা দ্রুত বাড়ছে। এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভবিষ্যতে অসংক্রামক রোগের হার আরও বাড়তে পারে।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে খাদ্যের মোড়কে স্পষ্ট পুষ্টি তথ্য উল্লেখ বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং সেটি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।