ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি||
খুলনার ডুমুরিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর জমি দখল করে সড়কঘেঁষে অবৈধ বালুর বেডের (বিক্রির জন্য বালুর স্তূপ) ব্যবসা করছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা। এতে বালুবাহী ডাম্প ট্রাকসহ ভারী যান চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলো বিনষ্ট হয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি শব্দদূষণ ও ধুলাবালুতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। অবিলম্বে এই অবৈধ বালুর ব্যবসা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী।
গত বুধবার দেখা যায়, উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের কুলবাড়িয়াসংলগ্ন কাঁঠালতলা-মাগুরখালী পাকা সড়কঘেঁষে পাউবোর জমিতে বালুর ব্যবসা চলছে। দুটি বিশাল পুকুর খুঁড়ে সেখানে নদীপথে বিভিন্ন স্থান থেকে বালু এনে জমা করা হয়। সেখান থেকে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে বালু সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ডাম্প ট্রাকযোগে এসব বালু বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। ভারী যান চলাচলে আশপাশের গ্রামীণ সড়কগুলো বিনষ্ট ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। যানবাহন থেকে বালু উড়ে সড়কের পাশের কৃষিজমিতে পড়ছে। এতে উর্বরতা হারাচ্ছে আবাদি জমি। স্থানীয়রা জানান, বালুর বেডটির মালিক আটলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ হেলাল উদ্দিন।
আটলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার দৌলত হোসেন বলেন, কুলবাড়িয়া পাকা সড়ক ঘেঁষে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি জায়গা দখল নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান অবৈধ বালুর ব্যবসা শুরু করেছেন। এমন কী, কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন করেছেন। রাতভর আট থেকে দশটি ডাম্প ট্রাক চলাচলে মাগুরখালী-কাঁঠালতলা ও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কগুলো বিনষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় এমপির কাছে লিখিত অভিযোগ করা হবে।
মাগুরখালী গ্রামের কৃষক পরিতোষ রায় বলেন, বালুবোঝাই ডাম্প ট্রাক চলাচলের কারণে পাকা সড়কগুলো ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সড়ক চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
কাঁঠালতলার ভ্যানচালক হাফিজ সরদার জানান, বালুবোঝাই ট্রাক চলাচলে মাগুরখালী-কাঁঠালতলা সড়ক উঁচুনিচু হয়ে পড়েছে। রাস্তায় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় ভ্যানগাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি আরও বাড়ে। গোলাবদহ গ্রামের গৃহবধূ কবিতা রানী মণ্ডল বলেন, বালু পরিবহনকালে ট্রাক থেকে সড়কে বালু পড়ে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
ডুমুরিয়া পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কৃষ্ণেন্দু বিকাশ সরকার বলেন, বিষয়টি জেনেছি। সরেজমিনে দেখে সত্যতা পাওয়া গেলে স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে পাউবোর জায়গায় বালুর অবৈধ ব্যবসা চলতি সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে বালুর বেডের অবৈধ ব্যবসার বিষয়টি স্বীকার করেন ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে পত্রিকায় লেখালেখির দরকার নেই। আমি আপনার সঙ্গে দ্রুতই দেখা করব!’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নমিতা সরকার বলেন, সরকারি জমিতে বালুর বেডের অবৈধ ব্যবসার বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








































