Home আঞ্চলিক মুক্তিপণ দিয়ে সুন্দরবন থেকে ফিরলেন ১৮ বনজীবী, নিখোঁজ দুই জেলেকে ঘিরে উৎকণ্ঠা

মুক্তিপণ দিয়ে সুন্দরবন থেকে ফিরলেন ১৮ বনজীবী, নিখোঁজ দুই জেলেকে ঘিরে উৎকণ্ঠা

3

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলসংলগ্ন সুন্দরবনে জলদস্যুদের হাতে অপহৃত ২০ জেলে ও মৌয়ালের মধ্যে ১৮ জন মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত সোমবার বিকেল থেকে বুধবার পর্যন্ত ধাপে ধাপে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে আসেন তারা। তবে মুক্তিপণের টাকা পাঠানোর পরও দুই জেলে এখনো নিখোঁজ থাকায় তাদের পরিবারে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৪ ও ৫ মে ‘আলিফ ওরফে আলিম বাহিনী’ এবং ‘নানাভাই ওরফে ডন বাহিনী’ পরিচয়ে অস্ত্রধারী জলদস্যুরা সুন্দরবনের চুনকুড়ি নদীর গোয়ালবুনিয়া দুনের মুখ, ধানোখালির খাল, মামুন্দো নদীর মাধভাঙা খাল এবং মালঞ্চ নদীর চালতে বেড়ের খাল এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে অপহৃতদের মহাজন, সহযোগী ও পরিবারের সদস্যদের কাছে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

পরিবারগুলোর দাবি, কয়েক দফা দর-কষাকষির পর দস্যুরা মুক্তিপণের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দেয়। পরে নির্ধারিত বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানো হলে ধাপে ধাপে অপহৃতদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

ফিরে আসা জেলেদের মধ্যে মুরশিদ আলম ৭০ হাজার, করিম শেখ ১ লাখ ২০ হাজার, আবু ইসা ৫৫ হাজার, মমিন ফকির ৪৫ হাজার, আল-আমিন ২৫ হাজার, আবুল বাসার বাবু ৩০ হাজার, আবুল কালাম ৩০ হাজার, শাহাজান গাজী ৪০ হাজার, সিরাজ গাজী ৪০ হাজার, রবিউল ইসলাম বাবু ২০ হাজার, সঞ্জয় ২০ হাজার, আল-মামুন ২০ হাজার, হুমায়ুন ২০ হাজার, মনিরুল মোল্লা ২০ হাজার, রবিউল ইসলাম ২০ হাজার, হৃদয় মণ্ডল ২০ হাজার, আবদুস সালাম ৪০ হাজার এবং ইব্রাহিম গাজী ৫৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত হন। সব মিলিয়ে প্রায় সাত লাখ টাকা আদায় করেছে দস্যুরা।

তবে শুকুর আলী গাজী ও রেজাউল করিম নামের দুই জেলের পরিবারের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে পাঠানো হলেও তারা এখনো বাড়ি ফেরেননি। এতে তাদের স্বজনদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

ফিরে আসা জেলেরা অভিযোগ করেন, সুন্দরবনে এখনো জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য অব্যাহত রয়েছে। তারা বনাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং জলদস্যু দমনে কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।

পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান বলেন, জলদস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ডের সঙ্গে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে অপহৃতদের পরিবার বা সহযোগীরা বিস্তারিত তথ্য গোপন রেখে নিজেরাই দস্যুদের সঙ্গে সমঝোতা করে থাকেন, ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম ব্যাহত হয়।