স্পোর্টস ডেস্ক।।
২০২৬ সালের পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপে ফিফা বর্তমানে যে ‘হিট সেফটি’ বা তাপজনিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছে, সেটিকে ‘অপ্রতুল’ বলে অভিহিত করেছেন বিশ্বের একদল শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী। তাদের দাবি, বিদ্যমান গাইডলাইনগুলো আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সংগতিপূর্ণ নয় এবং এটি খেলোয়াড়দের গুরুতর শারীরিক ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে।
যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের ২০ জন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ফিফাকে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন। সেখানে তারা বলেছেন, ১৬টি স্টেডিয়ামের মধ্যে ১৪টিতেই তাপমাত্রা বিপজ্জনক মাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে দক্ষিণ যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর মেক্সিকোতে দিনের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানের ৩ মিনিটের ‘কুলিং ব্রেক’ যথেষ্ট নয়।
তারা এই বিরতি অন্তত ৬ মিনিট করার এবং তাপমাত্রা ‘২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ডব্লিউবিজিটি’ ছাড়িয়ে গেলে ম্যাচ স্থগিত বা পেছানোর দাবি জানিয়েছেন। খেলোয়াড়দের কল্যাণে ফিফা কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
এর মধ্যে একটি হলো, প্রতিটি অর্ধে আবহাওয়া নির্বিশেষে বাধ্যতামূলক ৩ মিনিটের কুলিং ব্রেক। খোলা মাঠের ম্যাচগুলোতে টেকনিক্যাল স্টাফ ও বদলি খেলোয়াড়দের জন্য তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত বেঞ্চ রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ওয়েট বাল্ব গ্লোব টেম্পারেচার পদ্ধতিতে তাপ ও আর্দ্রতা পরিমাপ করার ব্যবস্থাও রাখা হবে। যদি এই মান ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছে বা ওপরে যায়, তবে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দর্শকদের জন্য স্টেডিয়ামে কুয়াশা সিস্টেম , কুলিং বাস এবং অতিরিক্ত জল বিতরণের ব্যবস্থাও থাকবে।
‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৯৯৪ সালে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের আসরে অসহনীয় তাপ ও আর্দ্রতার ঝুঁকি অনেক বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি ১৯৯৪ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এছাড়া দাবদাহের পাশাপাশি বজ্রপাত এবং দাবানলের কারণে বাতাসের নিম্নমানও খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অফ কানেকটিকাটের অধ্যাপক ডগলাস কাসা বলেন, ‘হাইড্রেসন ব্রেক অবশ্যই ৫ থেকে ৬ মিনিট হওয়া উচিত। আমরা আশা করি এই চিঠি ফিফাকে তাদের গাইডলাইন আপডেট করতে বাধ্য করবে।’
সরাসরি বিজ্ঞানীদের চিঠির বিষয়ে মন্তব্য না করলেও ফিফা জানিয়েছে, তারা একটি ‘স্তরবিন্যাসিত তাপ প্রশমন মডেল’ ব্যবহার করবে। রিয়েল-টাইম আবহাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিটি ম্যাচের জন্য আলাদা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফিফার একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা সূচি নির্ধারণের সময় জলবায়ুর বিষয়টি মাথায় রেখেছি। যেখানে সম্ভব সবচেয়ে গরম সময়ে ম্যাচ রাখা হয়নি এবং গরম এলাকাগুলোর খেলা ঢাকা স্টেডিয়ামে দেওয়ার অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।’
তবে বিজ্ঞানীদের মতে, ফিফার এই ‘ধীরে চলো’ নীতি খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের জন্য ‘বেপরোয়া’ আচরণের শামিল হতে পারে। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগেই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকৃতির রুদ্ররূপ মোকাবিলা করা।










































