স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড ওশান সায়েন্সেস অনুষদের একদল শিক্ষার্থী সাম্প্রতিক একটি পরীক্ষা সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে|
জানাগেছে, লেভেল-৪, সেমিস্টার-৪ এর ফাইনাল পরীক্ষার অংশ হিসেবে ঋঐগ-৪২০১ কোর্সের পরীক্ষা গত ৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল| তবে পরীক্ষার আগের দিন এক শিক্ষার্থীর অসুস্থতাকে ঘিরে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে|
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাহসিনা আনোয়ার শর্মী নামে এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন| এ প্রেক্ষিতে অনুষদের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আসাদুজ্জামান মানিক শিক্ষার্থী প্রতিনিধি তারেক হাসানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরীক্ষা পেছানোর অনুরোধ জানান| তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরীক্ষা স্থগিত না করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়|
এ দিকে অপর একটি সুত্রে জানাযায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি পক্ষ তাহসিনা আনোয়ার শর্মী নামের এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় প্রথম স্থান পাওনাোর জন্য অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় সকলকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিরত থাকতে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে|
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে কিছু শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে যেতে উৎসাহিত করা হয় এবং সবাই একসঙ্গে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করলে কোনো সমস্যা হবে না এমন আশ্বাস দেওয়া হয়| একই সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থীর (আদিব, জেরিন, রিজওয়ান মিরাজসহ কয়েকজন) বিরুদ্ধে সহপাঠীদের ফোন ও বার্তার মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করতে চাপ দেওয়ানো হয়|
এর ফলে ভয় ও অনিশ্চয়তার কারণে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি বলে জানা গেছে| এমনকি কেউ কেউ পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়েও হলে প্রবেশ করতে পারেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে| এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন|
তাদের মতে, সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন সম্ভব| একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, অনুষদের কিছু শিক্ষক বিষয়টি জানলেও প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে সাহস পাচ্ছেন না|
বর্তমানে শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, এই কোর্সে অনেকে ফেল থাকার ফলে ভবিষ্যৎ জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা তাদের একাডেমিক অগ্রগতি, চাকরি ও উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে|
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত তদন্ত ও সমাধানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ নিরসনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা|
এব্যাপারে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি ড. নাজমুল আহসান জানান একজন শিক্ষার্থীর অসুস্থতার কারন দেখিয়ে সব শিক্ষার্থী একযোগে পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল| বিধায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা আইন ও বিধি অনুযায়ী একটি স্পেশাল সেমিস্টারের ব্যবস্থা আছে| যেহেতু লাস্ট সেমিস্টারে একযোগে সকল শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ থেকে বিরত ছিল| সে জন্য তাদেরকে একটি শেষ সুযোগের জন্য আইন অনুযায়ী স্পেশাল সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে পরীক্ষা দেবার সুযোগ পাচ্ছে| তাদের পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হবে খুব শিঘ্রই| কিছু ¯^ার্থানেষী ব্যাক্তি বা গোষ্ঠী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতে মিথ্যাচার করছে| একটি পক্ষ এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে মিথ্যাচার ও প্রভাকান্ডা ছড়াচ্ছে| তারা খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান দীর্ঘ দিনের চেয়ে এখন দিন দিন উন্নতিতে ঈর্ষানীত হয়ে নানা রকম অপপ্রচার চালাচ্ছে|








































