Home আঞ্চলিক কপোতাক্ষের তীরে উপড়ে গেছে মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত বটগাছ

কপোতাক্ষের তীরে উপড়ে গেছে মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত বটগাছ

0

কেশবপুর প্রতিনিধি।।


‘দেব-অবতার ভাবি বন্দে যে তোমারে,
নাহি চাহে মনঃ মোর তাহে নিন্দা করি,
তরুরাজ! প্রত্যক্ষতঃ ভারত সংসারে
বিধির করুণা তুমি তরু–রূপ ধরি।’

চারটি চরণ মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বটবৃক্ষ’ কবিতার। তাঁর এই কবিতার স্মৃতিবিজড়িত বটগাছটি উপড়ে গেছে। আজ শনিবার দুপুরের কালবৈশাখীর ঝড়ে গাছটি উপড়ে পড়ায় যশোরের কেশবপুরের সাগরদাঁড়ি কপোতাক্ষ নদের তীরের মানুষ আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

আজ বেলা একটার দিকে কালো মেঘ করে প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ির পূর্ব পাশে কপোতাক্ষ নদের তীরে বিরাট বটবৃক্ষটি ঝড়ে উপড়ে পড়ে। কবির চতুর্দশপদী ‘বটবৃক্ষ’ কবিতায় লেখা স্মৃতিময় বটগাছটি ভেঙে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মন ভারী হয়ে উঠেছে।

বটবৃক্ষের পাশেই বাড়ি সুনীল হালদারের (৭০)। তিনি বলেন, বটবৃক্ষটি নিয়ে অনেক স্মৃতি রয়েছে। এটি দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে অনেকে আসেন। আর হয়তো কোনো পর্যটকের পদধূলি এখানে পড়বে না। এটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিময় বটবৃক্ষ। বটবৃক্ষটি ভেঙে পড়ায় তাঁরা আজ দুঃখে ভারাক্রান্ত।

মধুসূদন একাডেমির পরিচালক ও মধুসূদন–গবেষক কবি খসরু পারভেজ জানান, ‘বটবৃক্ষ’ কবিতাটি কবি ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে ১৮৬৫ সালে লেখেন। এ কবিতা চতুর্দশপদী কবিতা। তিনি সুদূর ভার্সাই নগরীতে বসে তাঁর শৈশবের স্মৃতিময় বটবৃক্ষ নিয়ে কবিতাটি লিখে তাঁর আবেগ ও স্মৃতি প্রকাশ করেছিলেন। কবিতাটি ১৮৬৭ সালে ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলি’ বইয়ে প্রকাশিত হয়।

খসরু পারভেজ বলেন, ‘আমরা বহুদিন ধরে কবির স্মৃতিময় বটবৃক্ষটি রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু বটবৃক্ষটি রক্ষার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করায় কবির শেষ স্মৃতিচিহ্নটিও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। এটা খুবই বেদনার এবং কষ্টের।’