খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
ঝিনাইদহে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পাল্টে গেছে গত দুই মাসের রূপ। এখন আর দেখা মেলে না তেল নিতে আসা বাইকারদের দীর্ঘ লাইন, এমনকি সেচযন্ত্রের জন্য ডিজেল নিতে আসা কৃষক এবং যানবাহন চালকদের লাইনও নেই। বরং অনেক ফিলিং স্টেশনে বাইকারদের জন্য অপেক্ষা করছেন বিক্রেতারা। বিক্রিও কমেছে জ্বালানি তেলের।
গতকাল শনিবার দুপুর ও বিকেলে জেলা শহরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। দুপুর দুইটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত পাঁচটি স্টেশন ঘুরেছেন এ প্রতিবেদক।
সরেজমিনে শহরের লাউদিয়া তামিম ফিলিং স্টেশনে কোনো বাইক চোখে পড়েনি। ডিজেল নিতে আসা কৃষক কিংবা অন্য যানবাহনও দেখা যায়নি। এই ফিলিং স্টেশনে গত শুক্রবার ৩৯৭ লিটার পেট্রোল ও দুই হাজার পাঁচশ লিটার ডিজেল বিক্রি হয়েছিল। তবে গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পেট্রোল ৩০ লিটার এবং ডিজেল আটশ লিটার বিক্রি হয়।
রেজাউল করিম ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে, অনেক সময় পর পর একটি-দুটি করে মোটরসাইকেল আসছে তেল নিতে। তবে দেখা যায়নি ডিজেল নিতে আসা কোনো যানবাহন। গত শুক্রবার এই স্টেশন থেকে পেট্রোল ১২শ লিটার, অকটেন তিন হাজার লিটার এবং ডিজেল দুই হাজার লিটার বিক্রি হয়। অথচ সংকটকালে মার্চ মাসের শুরু থেকে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যেত বরাদ্দ পাওয়া গড়ে তিন থেকে ছয় হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটেন। আর মার্চ মাসের আগে প্রতিদিন বিক্রি ছিল পেট্রোল ১৮শ লিটার, অকটেন ১৮শ থেকে দুই হাজার লিটার এবং ডিজেল গড়ে সাড়ে পাঁচ হাজার লিটার। গতকাল শনিবার সকাল থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পেট্রোল এক হাজার ৮১২ লিটার, অকটেন ২৯৫ লিটার ও ডিজেল দুই হাজার ৭৪৯ লিটার বিক্রি হয়েছে।
আরিফ ফিলিং স্টেশনে সংকটকালে প্রতিদিন বিক্রি হতো জ্বালানি। এক দিন অন্তর বিক্রি হতো পেট্রোল ও অকটেন। প্রতিদিন বিক্রি হতো তিন থেকে সাড়ে চার হাজার লিটার। এই তেল সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যেই বিক্রি শেষ হয়ে যেত। বর্তমানে (গত দুদিনে) বিক্রি দাঁড়িয়েছে গড়ে এক হাজার ৯শ লিটারে। ডিজেল সংকটকালে বিক্রি হয়েছে প্রতিদিন গড়ে সাত হাজার তিনশ লিটার। আর গত
দুদিনে বিক্রি হয়েছে গড়ে পাঁচ
হাজার ৮৯৮ লিটার। শনিবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পেট্রোল এক হাজার দুইশ লিটার, অকটেন এক হাজার ১৪ লিটার এবং ডিজেল বিক্রি হয়েছে ছয় হাজার পাঁচশ লিটার।
এভাবে ঝিনাইদহ জেলার ৩৬টি ফিলিং স্টেশনেই গত দুই মাসের চিত্র পাল্টে গেছে বলে জানা গেছে। বেশিরভাগ স্টেশনে বিক্রি কমেছে প্রায় অর্ধেক। ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে ধীরে ধীরে খুলে নেওয়া হচ্ছে চালকদের লাইন রক্ষার জন্য সারি করে স্থাপন করা বাঁশ। তেলের নতুন দাম নির্ধারণের পর থেকে কমতে শুরু করে বাইকারদের ভিড়।
আরিফ ফিলিং স্টেশনে ট্রাকের জন্য তেল নিতে আসা শেখ শাহীন বলেন, ‘জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে, তাই ডিজেল নিতে এসেছি। শুধু আমি একাই, ভিড় ছাড়াই ৯০ লিটার তেল নিয়েছি। এখন আর আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। ভালোই লাগছে।’
রেজাউল করিম ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা বাইকার রনি আহমেদ বলেন, ‘কোনো লাইন নেই, মোটরসাইকেল নেই। ফ্রি পেয়ে আমার বাইকে ট্যাংকি ফুল করে তেল নিয়ে নিলাম।’
তামিম ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. তরিকুজ্জামান জানান, সংকটকালে চাহিদামতো তেল পাননি ডিপো থেকে। প্রতি দুই থেকে তিন দিন পরপর শুধু পেট্রোল পেতেন তিন হাজার লিটার করে, যা বিক্রি শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যেত। আর এখন তেল বিক্রি করার লোক পাওয়া যাচ্ছে না।
আরিফ ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মারুফ আহমেদ বলেন, গ্রাহকের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখেই তারা নিয়মিত তেল বিক্রি করেছেন। তবে এখন কিছুটা কমেছে ক্রেতা। বিশেষ করে বিভিন্ন বাজারে ডিজেলের যে এজেন্ট রয়েছে তাদের তেল বিক্রি নিয়মিত না থাকায় পাম্পগুলোতে কৃষকের ভিড় ছিল বেশি। এখন আমাদের স্বাভাবিক বিক্রিও নেই। অনেকেই বাড়তি রিজার্ভ করে রাখায় এমন অবস্থা।
রেজাউল করিম ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার হাসানুল ফারুক বলেন, ‘তেল পাব না’– এমন ধারণা থেকেই মানুষ হয়তো তেল কেনার প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ে। এক্ষেত্রে যাদের প্রয়োজন নেই তারাও এসেছে পাম্পে, যাদের প্রয়োজন তারা তো এসেছেই। ফলে অনেক ক্ষেত্রে যাদের প্রয়োজন তারা বঞ্চিত হয়েছে বাড়তি চাপের কারণে।
বিষয়টি নিয়ে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড খুলনা ডিপোর ডিএমও আব্দুল লতিফ বলেন, আমাদের ডিপোতে পর্যাপ্ত তেল মজুত ছিল। কোনো সংকট ছিল না। ঠিকমতোই পাম্পে তেল দিয়েছি। মূলত, অনেকেই সংকট হবে– এমন প্যানিকে পড়ে বেশি তেল কিনে রেখেছে কয়েক মাসে। ফলে এখন পাম্পগুলোর এমন চিত্র।









































