Home Lead রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নতুন উৎপাদন মাইলফলক

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নতুন উৎপাদন মাইলফলক

4

মোংলা প্রতিনিধি
বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বের প্রতীক রামপালের মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এক অসামান্য রেকর্ড গড়েছে। মাসজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ আর বিদ্যুতের আকাশচুম্বী চাহিদার মধ্যেও কেন্দ্রটি ৭৬০ মিলিয়ন ইউনিটেরও (kWh) বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। জাতীয় সংকটের এই সময়ে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৯ শতাংশেরও বেশি একাই জোগান দিয়ে কেন্দ্রটি জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

তীব্র দাবদাহের এই মাসে কেন্দ্রটি গড়ে ৮০% প্ল্যান্ট লোড ফ্যাক্টর (PLF) বা সক্ষমতায় পরিচালিত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে যখন তাপপ্রবাহের কারণে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন কেন্দ্রটি অভাবনীয় ৯৭% সক্ষমতায় (PLF) বিদ্যুৎ উৎপাদন করে গ্রিডকে স্থিতিশীল রেখেছে। এই নিয়ে পঞ্চম বারের মতো রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি এক মাসে ৭০০ মিলিয়ন ইউনিটের বেশি উৎপাদনের মাইলফলক স্পর্শ করল, যা এর নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতারই প্রমাণ।

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও পরিবেশ সুরক্ষা এবং অত্যাধুনিক ‘আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল’ প্রযুক্তি সমৃদ্ধ রামপাল কেন্দ্রটি উচ্চ দক্ষতা এবং পরিবেশের ওপর ন্যূনতম প্রভাব নিশ্চিত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এতে ব্যবহৃত উন্নত’ ফ্লু গ্যাস ডি-সালফারাইজেশন’ (FGD) প্রযুক্তি প্রচলিত পরিবেশগত মানদন্ড কঠোরভাবে মেনে চলে এবং শিল্প ও আবাসিক খাতের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ‘বেসলোড পাওয়ার’ নিশ্চিত করে।

পরিচালন দক্ষতা ও অংশীদারিত্বের দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড (BIFPCL) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রী রমানাথ পূজারী বলেন, “সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় কেন্দ্রটি পরিচালনা করা আমাদের শক্তিশালী ডিজাইন এবং টিমের নিরলস প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। এই সাফল্য আমাদের কঠোর পরিচালন পদ্ধতি এবং দুই দেশের মধ্যকার সফল সহযোগিতার একটি অনন্য নিদর্শন।” বর্তমানে কেন্দ্রটি ভারতের এনটিপিসি (NTPC) বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একদল দক্ষ বাংলাদেশি প্রকৌশলী দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এনটিপিসি বর্তমানে উপদেষ্টা হিসেবে সহায়তা প্রদান করলেও, স্থানীয় মেধাবী প্রকৌশলীদের দ্বারা এই বিশালাকার কেন্দ্রের দৈনন্দিন পরিচালনা বাংলাদেশের কারিগরি সক্ষমতা অর্জনের পথে একটি বড় অর্জন।

ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ যখন তার জ্বালানি উৎসগুলোকে আরও শক্তিশালী ও বহুমুখী করার পথে এগোচ্ছে, তখন মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের মতো সম্পদগুলো সিস্টেমের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে। প্রতিকূল জলবায়ু এবং চরম চাহিদার সময়ে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করে রামপাল প্রকল্প দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করে অনন্য অবদান রেখে চলেছে।