স্পোর্টস ডেস্ক।।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এবার তৃণমূলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের তুলে আনতে দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।
শনিবার (২ মে) মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে সিলেটে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
তিনি জানান, দেশ গড়ার পরিকল্পনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পোর্টসকে বরাবরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন এবং ইশতেহারের সেই লক্ষ্য পূরণে তাদের মন্ত্রণালয় নিরলস কাজ করছে।
এর প্রমাণস্বরূপ সরকার ইতোমধ্যেই প্রান্তিক খেলোয়াড়দের জন্য ক্রীড়া কার্ড ও বিশেষ ক্রীড়াভাতা চালু করেছে।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মধ্য দিয়ে আজ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে, যা দীর্ঘদিনের অদৃশ্য তৃণমূল মেধাগুলোকে সবার সামনে নিয়ে আসবে।
সব বড় আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রাজধানী ঢাকাকে বেছে নেওয়ার যে চিরাচরিত প্রথা রয়েছে, তা ভাঙার পেছনের গল্পও ব্যাখ্যা করেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি জানান, মেগা এই ইশতেহারের উদ্বোধন কোথা থেকে হবে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি নিজেই ঢাকার বাইরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে সবকিছু সবসময় ঢাকা থেকে শুরু হয়, তাই এবার তাকে যেন ঢাকায় না রেখে ঢাকার বাইরে থেকে এই কর্মসূচির সূচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সেই বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ীই সিলেটকে বেছে নেওয়া হয়েছে। সিলেটে বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির মাঝেও প্রধানমন্ত্রী একটি খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন উল্লেখ করে
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একযোগে সারা দেশের ৬৪ জেলায় ভার্চ্যুয়ালি এই প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
তৃণমূল থেকে সঠিক মেধা অন্বেষণের এই বিশাল কর্মযজ্ঞটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হবে বলে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের নিয়ে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, দাবা, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট এই আটটি জনপ্রিয় ইভেন্টে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
তৃণমূলের প্রতিভা যেন কোনোভাবেই অবমূল্যায়িত না হয়, সেজন্য পুরো দেশকে ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ এই দশটি শক্তিশালী প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি পর্যায়ে একটি নিবেদিত কমিটি পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোরভাবে তদারকি করবে যাতে বাছাই প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।
প্রতিযোগিতাটি উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে জেলা ও বিভাগীয় স্তর পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে গড়াবে এবং আগামী ১৩ থেকে ২২শে মে’র মধ্যে আঞ্চলিক পর্বের সব খেলা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দলগত ও কোর্ট গেম যেমন ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনের প্রতিটি পর্যায়ে সরাসরি নকআউট পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।
অন্যদিকে, বুদ্ধির খেলা দাবা অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সুইস লিগ পদ্ধতিতে এবং ব্যক্তিগত ইভেন্ট অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টে প্রাথমিক হিট বা বাছাইয়ের পর ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে ফলাফল চূড়ান্ত করা হবে। প্রতিভার সর্বোচ্চ বিকাশের লক্ষ্যে এই মেগা আসরে প্রতিটি খেলোয়াড় তার সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুটি ভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।









































