স্পোর্টস ডেস্ক।।
কানাডার ভ্যাঙ্কুভার কনভেনশন সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় যখন ফিফার ডেলিগেটরা রাজকীয় মধ্যাহ্নভোজে ব্যস্ত, ঠিক তার কয়েক গজ দূরেই হাহাকার ঝরে পড়ছিল জিব্রিল রাজউবের কণ্ঠে।
স্যুট আর মাথায় কেফিয়েহ পরা ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এই সভাপতি যখন ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষ আর শত শত ফিলিস্তিনি অ্যাথলেটের মৃত্যুর বর্ণনা দিচ্ছিলেন, তখন তার তীক্ষ্ণ কণ্ঠ উপস্থিত সবার নজর কেড়ে নেয়।
ফিফা কংগ্রেসের মঞ্চে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফিলিস্তিনের রাজউব এবং ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি বাসিম শেখ সুলেমানকে একসাথে মঞ্চে ডেকে ফটো সেশন ও করমর্দনের অনুরোধ করেন। ইনফান্তিনোর উদ্দেশ্য ছিল ফুটবলের মাধ্যমে শান্তির বার্তা দেওয়া, কিন্তু জিব্রিল রাজউব অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
রাজউব তার প্রত্যাখ্যানের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘ইসরায়েলি প্রতিনিধিদের আগে প্রমাণ করতে হবে যে তারা ফিফার নীতিমালা ও মানবিক আদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ। ইনফান্তিনো হয়তো শান্তির সেতুবন্ধন তৈরি করতে চেয়েছেন, কিন্তু তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের এবং আমাদের ক্রীড়া পরিবারের গভীর ক্ষত ও কষ্টের কথা জানেন না।’
সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, ইনফান্তিনো এমন এক ‘ভিভিআইপি’ জগতে বাস করেন যা সাধারণ মানুষের রূঢ় বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে। যেখানে ৫ তারকা হোটেলের বিলাসিতা আর কৃত্রিম করতালির ভিড়ে গাজা বা সুদানের মা-বোনদের কান্নার শব্দ পৌঁছানো কঠিন।
ভ্যাঙ্কুভারের হোটেলের বাইরে যখন সাধারণ শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরির দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিলেন, ভেতরে তখন কোটি টাকার জৌলুসে চলছিলেন ফিফা কর্তারা
অ্যাক্টিভিস্টরা ইনফান্তিনোর এই প্রচেষ্টাকে ‘লোক দেখানো শান্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ভ্যাঙ্কুভারে বিক্ষোভকারী তামের আবুরামাদান বলেন, ‘ইউক্রেনের প্রতিনিধির সঙ্গে রাশিয়ার প্রতিনিধিকে এভাবে জোর করে হাত মেলাতে বললে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠত। ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রে এই দ্বিমুখী আচরণ কেন?’
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুই পক্ষকেই একটি যুব টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান ইনফান্তিনো। অনুষ্ঠান শেষে তিনি আবারও দুই প্রতিনিধিকে কাছাকাছি আনার চেষ্টা করলে জিব্রিল রাজউব হাত তুলে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং উচ্চকণ্ঠে বলেন, ‘আমরা কষ্টে আছি!’ তার এই তিন শব্দ পুরো কনভেনশন হলের চাকচিক্য আর বিলাসিতাকে এক নিমেষে ম্লান করে দেয়।
শান্তি স্থাপনের নামে কেবল একটি ফটোসেশন বা করমর্দন যে ফিলিস্তিনের দীর্ঘদিনের রক্তক্ষরণ ঢাকতে পারে না, রাজউবের এই প্রতিবাদ সেটিই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।









































