Home আঞ্চলিক নড়াইলে বোরোর বাম্পার ফলন, ধান কাটা নিয়ে বিপাকে কৃষক

নড়াইলে বোরোর বাম্পার ফলন, ধান কাটা নিয়ে বিপাকে কৃষক

1


নড়াইল প্রতিনিধি ||

নড়াইলে তিনটি উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকের সোনালী হাসির সঙ্গে সবুজ মাঠে সোনালী ধানের হাসি একাকার হয়ে গেছে। সবুজ ধান ক্ষেতের মাঝে সোনালী ধানের শীষ বাতাসে দুলছে, যা অপূর্ব প্রকৃতিক দৃশ্য তৈরি করেছে। জেলার কোনো কোনো মাঠে ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে একদিকে ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি বেশি, অন্যদিকে শ্রমিক সংকটে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা কৃষকের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তিনটি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৫০ হাজার ৩০৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৩ হাজার ৩৪৬ হেক্টর, লোহাগড়া উপজেলায় ১০ হাজার ৩৩৭ হেক্টর এবং কালিয়া উপজেলায় ১৬ হাজার ৬২৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। চাষ হওয়া জমি থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার ২০৮ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কালিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান বলেন, “চলতি মৌসুমে ৫ একর জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। সারা বছর একটা ফসলের উপরই আমাদের ভরসা। বসে থাকলে তো ধান ঘরে উঠবে না। শ্রমিক না পাওয়ায় নিজেরাই ধান কাটা শুরু করেছি। বর্তমান একজন শ্রমিককে ১০০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা মুজরি দিয়ে ধান কেটে লাভ থাকছে না।”

আকাশে মাঝেমধ্যে কালো মেঘ হয়ে বৃষ্টি হচ্ছে, তার সঙ্গে শ্রমিক সংকট- সব মিলিয়ে কৃষকের দুশ্চিন্তা বেড়েছে।

লোহাগড়া উপজেলার আমাদা গ্রামের কৃষক টিপু সরদার বলেন, “ধানের ফলন ভালো হয়েছে। ধান কাটা শ্রমিকের তীব্র সংকটে পড়েছি আমরা। এখন আর আগের মতো ধান কাটতে শ্রমিক পাওয়া যায় না। যারা ধান কাটা শ্রমিক ছিল তারা এখন শহরমুখী অথবা নিজেরাই ইজিভ্যান চাচ্ছেন। আমি দুই একর জমিতে ধান চাষ করেছি। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। শ্রমিককে একহাজার টাকা মুজরি দিয়ে ধান কেটে বাজারে বিক্রি করছি ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকা মণ দরে, তা হলে আমাদের লাভ কোথায় থাকলো?”

রবিবার (৩ মে) নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, কৃষকরা সরকারের প্রণোদনায় ধান বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ পেয়ে এ জেলার ব্যাপক আকারে বোরো ধান চাষ করেছে। একদিকে ধান কাটা শ্রমিক সংকটে রয়েছে, অন্যদিকে নতুন ধানের দামও কম। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা চলতি মৌসুমে বোরো ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবে। এ বছর জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।