Home কলাম ভর্তি পরীক্ষা নাকি লটারি-শিশুদের জন্য কোনটি উপযুক্ত?

ভর্তি পরীক্ষা নাকি লটারি-শিশুদের জন্য কোনটি উপযুক্ত?

200


-কাজী জলিল


বাংলাদেশে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা সবসময়ই একটি স্পর্শকাতর আলোচিত বিষয়।বিশেষকরে তৃতীয় শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার কমতি নেই।কোমলমতি শিশুদের প্রথম ও তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার সঠিক পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক বেশ পুরনো এবং ভর্তি পরীক্ষার পক্ষে এবং বিপক্ষে জোরালো যুক্তি-তর্ক রয়েছে।সম্প্রতি জাতীয় সংসদে এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।সংসদ সদস্য হাসানাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জাতীয় সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন যে,২০২৭ সাল থেকে স্কুলে ভর্তিতে বর্তমানের লটারি পদ্ধতি বাতিল করে আবারও ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হবে।মন্ত্রীর এই ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষাবিদ,অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
শিশুদের ওপর থেকে মানষিক চাপ কমাতে, তাদের শৈশব রক্ষা করতে,তাদেরকে ভীতসন্ত্রস্ত না করতে এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে তৃতীয় শ্রেণি সহ সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে,সব শ্রেণিতে লটারি বাধ্যতামূলক করা হয়।তবে সাধারণ অভিভাবকদের অধিকাংশই বর্তমানে ভর্তি পরীক্ষার পক্ষে মতামত দিয়েছেন। প্রশ্ন হলো ‘ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি’ নাকি ‘লটারি পদ্ধতি’ কোনটি শিশুদের জন্য উপযোগী।চলুন আমরা জানার চেষ্টা করি।

লটারি পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার সুবিধা ও অসুবিধা:
লটারি পদ্ধতির সুবিধা সমূহ:
ভর্তি পরীক্ষায় লটারি প্রক্রিয়া চালু করার পেছনে সরকারের যুক্তি ছিলো-
ক) লটারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশুদের শৈশব রক্ষা হবে।
খ) ভর্তি পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আসবে।
গ) শিশুদের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে।
ঘ) তাদেরকে ভীতসন্ত্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করা যাবে।
ঙ) কোচিং বানিজ্যের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা যাবে
চ) এবং ভর্তিকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি কমে যাবে।
এছাড়াও শিক্ষাবিদ,সুশীল সমাজ এবং অভিভাবকদের একটি অংশ লটারি প্রক্রিয়ার আরো কিছু সুবিধার কথা বলে থাকেন।যেমন:

ছ) লটারি পদ্ধতি অন্তত সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র শিশুদের জন্য নামী স্কুল গুলোর দরজা খুলে দিয়েছিলো।একজন দরিদ্র মানুষও তার সন্তানকে লটারির মাধ্যমে ভিকারুননিসা,হলিক্রস বা খুলনা জিলা স্কুলেরমতো বিদ্যালয়ে পড়ানোর স্বপ্ন দেখতে পারতেন।
জ) বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথে শিশুদেরকে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোচিং-এ দৌড় শুরু করতে হতোনা।
ঝ) শিশুদের পরীক্ষার আতঙ্কে পড়তে হতো না।
ট) শিশুদের ওপরে অপ্রয়োজনীয় চাপ ছিলো না এবং কোচিং-প্রাইভেটের প্রবণতা ছিলোনা।
ঠ) শিশুদের মানসিক বিকাশ ও সামাজিক বৈষম্য দূর করতে লটারি প্রক্রিয়া প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
ড) সকল স্কুলে আনুপাতিক হারে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতো।এরফলে একটি বা দুটি স্কুল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ পেতনা।
ঢ) অভিভাবকগন অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হতেন।
ন) অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে লটারি প্রক্রিয়া কার্যকর সমাধান।

লটারি পদ্ধতির অসুবিধা সমূহ:

ক) লটারি পদ্ধতির সবথেকে বড় অসুবিধা হলো প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীও লটারি প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।ফলে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা লটারিতে চান্স না পেয়ে কাঙ্খিত স্কুলে ভর্তি হতে পারেনা!
খ) প্রথম শ্রেণি থেকে লটারিতে অংশ নেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধন পরিবর্তন করতে হয়।কিছু অসাধু কর্মকর্তা কোনরকম বাচবিচার না করেই জন্মনিবন্ধনের কপি ইস্যু করে দেয়।এরফলে একজন শিক্ষার্থীর একের অধিক জন্মনিবন্ধন থাকে।
গ) প্রথম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী প্রথমবার সুযোগ না পেলেও সে আরো তিনবার লটারি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় দুটি কারণে।প্রথমত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বয়স নির্ধারনের সুযোগে।দ্বিতীয়ত সুবিধামতো বয়স বসিয়ে একজন শিক্ষার্থীর একাধিক জন্মনিবন্ধন থাকার কারণে।যেটি অবৈধ এবং অনৈতিক কর্মকান্ডের মধ্যে পড়ে।
গ) লটারির ফলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত স্কুলে সুযোগ পাচ্ছে না।যার প্রভাব পড়ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ফলাফলে।
ঘ) লটারির ফলে মেধা বিকাশের পথ বা সুযোগ বাধাগ্রস্ত হয়।
ঙ) মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থীদের মধ্যে লটারির কারণে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়।
চ) অনেক স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছেন যে,মেধা যাচাই ছাড়া সব মানের শিক্ষার্থী ভর্তির ফলে ক্লাসের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। বিশেষকরে প্রথম শ্রেণি থেকে সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের কারনেই এই ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হচ্ছে।ফলে একই ক্লাশে কেউ পড়া বুঝতে পারছে,কেউকেউ পারছেনা।ফলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি শিক্ষকদেরও শ্রম দিতে হচ্ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে। এরফলে শিক্ষার মান নষ্ট হচ্ছে।
ছ) দ্বিতীয় শ্রেণির সিলেবাস না পড়েই অনৈতিকভাবে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী চান্স পাওয়ার পরে কিন্ডারগার্টেন স্কুল থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠ শেষ করার প্রত্যয়ন বা টিসি সংগ্রহ করে ভর্তি হচ্ছে।এর ফলে শ্রেণির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।


ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতির সুবিধা সমূহ:


ক) ভর্তি পরীক্ষার প্রধান সুবিধা হলো এটি মেধার ভিত্তিতে যোগ্যতম শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করে, যা উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করে।
খ) এটি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সক্ষমতা যাচাই, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, এবং প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরির সুযোগ করে দেয়।
গ) মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি বা স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ থাকে এবং সমন্বিত পরীক্ষায় সময় ও অর্থ সাশ্রয় হয়।
গ)) ভর্তি পরীক্ষা হলে মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়।এরফলে তারা মানসিক ভাবে তৃপ্তি পায়।
ঘ) স্কুলগুলোতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়ার কারণে স্কুলের সামগ্রিক ফলাফল ব্যাহত হয়না।
ঙ) ভর্তি পরীক্ষা হলে মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়না।
চ) এরফলে ক্লাসের ভারসাম্য নষ্ট হয়না।
ছ) ভর্তি পরীক্ষার চান্স পাওয়া শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অনেক শ্রম ও সময় দিতে হয়না।
জ) ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পাওয়া শিক্ষার্থীরা দেশের মেধাবী জাতি গঠনে সহায়ক হয় এবং স্কুলগুলো মেধাবী জাতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।যেটি একটি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ঝ) ভর্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান ও মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে সঠিক মূল্যায়নে সহায়তা করে
ট) শিক্ষার্থী,শিক্ষক এবং অভিভাবকগন শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা ও সবলতা বুঝতে পারেন।
ঠ) এই পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের প্রচণ্ড চাপের মধ্যে কাজ করার ক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতির মানসিকতা তৈরি করে।
ড) ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস সাধারণত একটু কঠিন এবং ভিন্ন হওয়ায় তা একাডেমিক জ্ঞানের গভীরতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে অভ্যস্ত হয়।
সুতরাং ভর্তি পরীক্ষা শুধু মেধা যাচাই করেনা বরং একজন শিক্ষার্থীকে নিজের দক্ষতা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন করে ভবিষ্যতে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে। ‘লটারি পদ্ধতি এবং ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি’- এই আলোচনা থেকে একটা বিষয়ে আমরা একমত হতে পারি যে,দুটি প্রক্রিয়ারই সুবিধা-অসুবিধা রয়েছে।
তবে এ দুটিকে পাশ কাটিয়ে সরকারের বিকল্প কোন ব্যবস্থা খুঁজে বের করতে হবে।যেমন:উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের দেশেও এলাকা ভিত্তিক বা বাসার কাছের স্কুলে ভর্তির নিয়ম চালু করা যেতে পারে।এতে যাতায়াতের কষ্ট কমে যাবে,স্কুলগুলো সব মানের শিক্ষার্থী পাবে এবং শিশু নিজের পরিচিত পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।
এছাড়া সরকার যদি ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে এন্ট্রেন্স বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া আবারো লটারির পরিবর্তে কনভার্ট করতে চায়,তাহলে ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতির নীতিমালা বাস্তবায়ন করা জরুরী। যে সকল সুনির্দিষ্ট কারণে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ করা হয়েছিলো সেই কারণগুলো চিহ্নিত করতে হবে এবং সকল সমস্যার সমাধান করে একটি গ্রহনযোগ্য এবং শিশুবান্ধব নীতিমালা প্রনয়ণ করা জরুরী।


তবে বিগত বছরে তৃতীয় শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে নানা অভিযোগ ছিলো।এই অভিযোগ গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিলো প্রশ্ন প্রণয়নে অসাবধানতা এবং অনভিজ্ঞতা।মানসম্মত এবং শিশুবান্ধব প্রশ্নপত্র তৈরি না হওয়ায় ভর্তি পরীক্ষা সমালোচিত ছিলো। তৃতীয় শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর প্রশ্নপত্র এতোটাই জটিল এবং কঠিন করা হতো,যা একটি শিশুকে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতো।৫০ নম্বরের একটি প্রশ্নপত্রে তিনটি বিষয়ের ওপরে প্রশ্ন করা হতো।বাংলা-১৫,ইংরেজি-১৫,গনিত-২০।সময় ছিলো ১ঘণ্টা।তিন বিষয়ে মোট ২৩টি প্রশ্ন করা হতো,যা একটি শিশুর পক্ষে ১ঘণ্টায় উত্তর করা দু:সহ ব্যাপার ছিলো।বাংলা ও ইংরেজিতে ৭+৭=১৪টি প্রশ্ন করা হতো।গনিতে ৯টি অংক সহ মোট ২৩টি প্রশ্নের উত্তর ১ঘণ্টায় একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের পক্ষে লিখে শেষ করা অসম্ভব ব্যাপার।জেলা প্রশাসনের বিসিএস ক্যাডারদের দিয়ে এসব প্রশ্নপত্র করে একটি শিশুকে উম্মাদ বানিয়ে ছাড়তো। এরপরে প্রশ্নের মান নিয়েও সমালোচনা ছিলো সবার কাছে।বাংলা এবং ইংরেজিতে বই ভিত্তিক প্রশ্ন হতো ৮০%,গনিতে বই ভিত্তিক প্রশ্ন হলেও এতোটা জটিল করা হতো, দেখে মনেহতো বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্ন!ভর্তি পরীক্ষা যদি শিশুদের ওপরে অযৌক্তিক চাপ প্রয়োগ করার অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া হয়,তাহলে তার প্রথম দ্বায়ভার নিতে হবে,যারা এসব প্রশ্নপত্র তৈরি করতেন তাদেরকে।


সুতরাং এক্ষেত্রে ২য় শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের আলোকে প্রশ্নপত্র করতে হবে,এমন একটি কঠোর নীতিমালা আগেই প্রণয়ন করতে হবে।তাহলে শিক্ষার্থীদের ভীতি দূর হয়ে যাবে,পড়ার চাপ কমে যাবে এবং শিশুরা কোচিং নির্ভর হবেনা।যারা শিশুদের পাঠদান করান এমন সব এক্সপার্ট দিয়ে প্রশ্ন তৈরি করা সমিচীন হবে বলে অধিকাংশ মতামত দিয়েছেন।এক্ষেত্রে সরকার প্রাথমিক ও গন শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বৃত্তি পরীক্ষার আদলে ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্হা করতে পারে।শতভাগ গোপনীয়তা রক্ষা করে প্রশ্ন প্রণয়ন করতে হবে এবং সারা দেশে একই সময়ে,অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ করা যেতে পারে।এর ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার সুযোগ থাকবেনা এবং শিশুবান্ধব প্রশ্নে শিশুদের প্রকৃত মেধা যাচাই করা সম্ভব হবে।প্রসাশনের লোকবল দিয়ে প্রশ্ন করলে সেটি মানসম্মত এবং শিশুবান্ধব প্রশ্ন হবেনা।মনেরাখতে হবে প্রশ্ন সকলে করতে পারে,কিন্তু সকলের প্রশ্ন গ্রহনযোগ্য এবং মানসম্মত হবেনা।এজন্য পারদর্শীদের দিয়ে প্রশ্ন করানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে।


পরীক্ষা হলে অনেক সময় যারা হলগার্ড থাকেন তারা বিভিন্ন উৎকোচের বিনিময়ে হলে শিশুকে উত্তর করে দেন এমন অভিযোগ দির্ঘদিনের।এরফলে পরীক্ষার নিরপেক্ষতা বিঘ্নিত হয়।এজন্য অচেনা-অজানা শিক্ষকগনদের দিয়ে পরীক্ষা হলে গার্ড দেওয়াতে হবে।কোন অবস্থাতেই যে স্কুলে পরীক্ষা,সেই স্কুলের শিক্ষক দিয়ে হলে গার্ড দেওয়ানো যাবেনা।অন্য স্কুল বা প্রাইমারি স্কুল থেকে শিক্ষক সংগ্রহ করে পরীক্ষা পরিচালনা করতে হবে।তাহলে হলের ভেতরের দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যাবে।


অধিক রাত অবধি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করার রেওয়াজ বন্ধ করতে হবে।পরীক্ষার দিন সন্ধ্যার আগে যদি ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব না হয়,তাহলে পরের দিন সুবিধাজনক সময়ে পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করার রেওয়াজ করতে হবে।অথবা চান্সপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মোবাইলে মেসেজ দিয়ে পরীক্ষার ফলাফল জানিয়ে দেওয়ার বিধান করা যেতে পারে।এরফলে অযাচিত সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।


পরিশেষে লটারি পদ্ধতি বাদ দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা যুক্তিসঙ্গত হবে যদি ভর্তি পরীক্ষা সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা যায়।শিক্ষার্থীদের ভীতিকর পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করতে পাঠ্যবই কেন্দ্রিক মানসম্মত প্রশ্ন প্রনয়ণ করলে এবং ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রিক সকল দুর্নীতি দূর করতে পারলে স্কুল গুলোতে ভর্তি পরীক্ষার বিকল্প ভালো কোন পদ্ধতি হতে পারেনা।

(লেখক: সাবেক অধ্যক্ষ, খান-এ-সবুর ইংলিশ ভার্সন স্কুল এন্ড কলেজ)।