আজিজুল বারী হেলাল।।
১৯৭৫ সালের নবেম্বরে সিপাহী বিদ্রোহ ও প্রতি বিদ্রোহের ফলে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়। ক্ষমতার সেই শূন্যতা পূরণে বিপ্লবী সৈনিকরা ক্যান্টনমেন্টে বন্ধি সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধে মেজর জিয়ার ঘোষনা যেমন ইতিহাসে অনিবার্য ছিল, তেমনই ১৯৭৫ সালের ৭ নবেম্বর জেনারেল জিয়াউর রহমানের ক্ষমতায় আসীন হওয়াও ইতিহাসের অনিবার্য পরিনতি ছিল।
পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে স্বল্পতম সময়ের রাজনৈতিক বিপ্লব অথ্যাৎ ৩রা নবেম্বর থেকে ৭ নবেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বনাম বঙ্গভবনের মধ্যে রাজনৈতিক দর্শনের দ্বন্ধ সংঘাতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সৈনিকদের বিদ্রোহ ও প্রতি বিদ্রোহে যে বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল। সেই বিপ্লবের সন্তান হচ্ছেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ফরাসী দেশের বিপ্লবের সন্তান যেমন নেপোলিয়ন বোনাপার্ট। ৭৫’র নবেম্বরের বিপ্লবোত্তর কালে জেনারেল জিয়া সোলজার টার্ণড পলিটিশিয়ান হিসাবে আবির্ভূত হয়।এটাই ঐতিহাসিক বাস্তবতা।
স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষনাপত্রে সাম্য, মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায় বিচার মূল চেতনা হিসাবে লিখিত হলেও তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা ১৯৭২ সালের সংবিধানে জনমতের তোয়াক্কা না করে, দেশের প্রায় নিরানব্বই দশমিক নিরানব্বই ভাগ নানান ধর্মবিশ্বাসী মানুষকে ধর্মনিরপক্ষতার অলীক চাদরে আবৃত করেন। জাতীয়তা হিসাবে অন্যান্য নৃ গোষ্ঠির জাতি পরিচয়কে আড়াল করে সমগ্র জনগোষ্ঠীকে আংশিক নৃতাত্তিক বাঙ্গালী পরিচয় চাপিয়ে দেন এবং গনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রকে সংবিধানের চারটি মূলনীতি হিসাবে নির্ধারণ করেন।
রাজনীতিবিদ জিয়া তাই হাতেগোনা গুটিকয়েক প্রকৃতিবাদী ও নাস্তিক ব্যাতীত সমগ্র জনগোষ্টীর আস্তিকতাকে বিবেচনা করে ধর্মনিরপেক্ষতার বদলে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও আস্হার কথা সংবিধানে লিপিবদ্ধ করেন। বহুজাতী ও ভাষাগোষ্টীর বাংলাদেশে ঐক্যবদ্ধ জাতী গঠনে বাঙ্গালীর পরিবর্তে বাংলাদেশী জাতীয়তা নির্নয় করেন, সমাজতন্ত্রের আদলে সামাজিক ন্যায় বিচার অর্থে অর্থনৈতিক সমতার কথা বলেন।
স্বাধীনতার পরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মস্কোপন্হী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি একিভূত হয়ে বাকশাল নামে রাজনৈতিক দল গঠন করে এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে একদলীয় শাসন ব্যাবস্থা কায়েম করেন। রাজনীতিবিদ জিয়া এর বিপরীতে চালু করেন বহুদলীয় গনতন্ত্র অথ্যাৎ সকল রাজনৈতিক দলকে রাজনীতিতে অংশ নিতে সুযোগ দেন।
সৈনিক জিয়ার ক্ষমতায় আসীন এবং রাজনীতিবিদ জিয়ার জাতী গঠনে ও রাষ্ট্র গঠনে রাজনৈতিক দর্শন জনগনের কাছে গ্রহনযোগ্য কিনা, তা যাচাইয়ের জন্য শহীদ জিয়া ক্ষমতায় আসীন হওয়ার মাত্র দেড় বছরের মধ্যে ১৯৭৭ সালে দেশে প্রথম গনভোটের আয়োজন করেন এবং জনগনের নিরন্কুশ সমর্থন লাভ করেন। তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি প্রাক্তন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার এর নেতৃত্বাধীন নতুন রাজনৈতিক প্লাটফর্ম জাগদল (জাতীয় গনতান্ত্রিক দল), মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন পিকিংপন্হী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, মুসলীম লীগের একাংশের নেতৃবৃন্দ ও তফসিলি সম্প্রদায়রে নেতৃবৃন্দের দ্বারা ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে গঠিত জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টে চেয়ারম্যান হিসাবে জেনারেল জিয়াউর রহমান যোগ দিয়ে রাজনীতিতে অবতীর্ণ হন। ১৯৭৮ সালের জুন মাসে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের প্রার্থী হিসাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিরোধী জোটের প্রার্থী জেনারেল ওসমানিকে পরাজিত করে দেশের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হন।
শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন কে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসুচীতে বাস্তবায়নে করার লক্ষ্যে ১৯ দফা প্রস্তাব পেশ করেন। ধারাবাহিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অনিবার্য পরিনতিতে তিনি একই বৎসর সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিবসে জনগনের আকাংখা পূরণে, ইস্পাত কঠিন জাতীয় ঐক্য বিনির্মানে, মহান বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল( বিএনপি) গঠন করেন। বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষীকি সফল হোক! সার্থক হোক!!
(লেখক: জাতীয় সংসদ সদস্য)









































