বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
বাগেরহাটের রামপালের কৈগরদাশকাঠির লিটুর চরের বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে পড়েছে শতশত পরিবার। ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়ে জীবন জীবিকা হুমকির মধ্যে পড়েছে। জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় গেল প্রায় ১২/১৩ দিন অতিবাহিত হলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও কোনো ধরনের সহায়তা না পেয়ে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে সরকারি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত লিটুর চরের বাসিন্দারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার ও টেকসই বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে নদীর পাড়ের বেড়িবাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় জোয়ারের পানির চাপে বাঁধটি ভেঙে গেছে। যার ফলে জোয়ারের পানিতে শতশত ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। অনেক পরিবারের রান্নাঘরে পানি উঠে যাওয়ায় রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে খাবার ও সুপেয় পানির সংকট।
তীব্র জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ায় আমন চাষ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। দ্রুত বাঁধ সংস্কার করা না হলে দুই শতাধিক একর জমির আমন চাষ ব্যাহত হবে বলেও মানববন্ধনে দাবি করা হয়।
এলাকাবাসী জানায়, পানিতে তলিয়ে গেছে আমন ধানের চারা। এতে কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যঘেরগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় ঘের মালিকদেরও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেন, মৎস্য ঘেরগুলোতে সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লিটুর চরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের মধ্যে বসবাস করছেন। প্রতিবার বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকলে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও মৎস্যঘের ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা চরম হুমকির মুখে পড়ছে। বারবার এমন হুমকির মধ্যে পড়লেও সরকারিভাবে স্থায়ী টেকসই বেড়িবাঁধের ব্যবস্থা না নেওয়ার চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীরা।
গত ১২/১৩ দিন বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হলেও উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা সালাম মোল্ল, মকসেদ শেখ, মাজেদ ফকির বলেন, আমাদের সব হারিয়ে আজ আমরা দিশেহারা। যদি সরকারিভাবে সহায়তা করা হয় তা হলে আমরা উপকৃত হবো।
গৌরম্ভা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মুজিবর রহমান জোয়ার্দার বলেন, জোয়ারের পানির চাপে বাঁধ ভেঙে শতশত ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। যার ফলে ওই এলাকার মানুষ চরম ঝুঁকিকে রয়েছে। আমি এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়ে আমাদের প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেছি। তবে এখনো পর্যন্ত উপজেলার প্রশাসন কোনো খোঁজখবর বা এলাকায় আসেনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌসী বলেন, ওই এলাকায় প্রতিবছরই এমন ঘটনা ঘটে। উপজেলা থেকে অনেক দূর হওয়ায় আমি বিষয়টি অবগত ছিলাম না। তবে গতকাল ভুক্তভোগীরা মানববন্ধন করেছে, যে কারণে জানতে পেরেছি। আমি ইউনিয়ন প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছি, ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিয়ে তালিকা করতে। আমি আগামীকাল ওই এলাকায় যাব এবং তাদের শুকনা খাবার সরবরাহ করা হবে।









































