স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা মহানগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে ডানা মেলেছে এক নতুন ভোগান্তি—গরুর পাল। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে গলি-উপগলি, বিভাজক থেকে ফুটপাত, সর্বত্রই এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে গবাদিপশুর দল। কোথাও সড়ক বিভাজকের সবুজ গাছের চারা খেয়ে সাবাড় করছে, আবার কোথাও ফুটপাতে কিংবা রাস্তার মাঝখানে দল বেঁধে শুয়ে থাকছে। ফলে প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচল, ঘটছে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা।
সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী নগরবাসী। সরেজমিনে নগরের নিরালা, পিটিআই মোড়, বয়রা বাজার, খালিশপুর বিআইডিসি রোড, পাওয়ার হাউস মোড়, টুটপাড়া, দৌলতপুর এবং ফুলবাড়ীগেট ঘুরে দেখা গেছে সড়কজুড়ে গরুর অবাধ বিচরণের এমন করুণ চিত্র।
গত মঙ্গলবার দুপুরে নিরালা এসটিএস বর্জ্য অপসারণ কেন্দ্রের সামনে অন্তত ৪০টি গরুর পালকে ময়লার স্তূপে খাবারের খোঁজে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। সেখানকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানান, গরুগুলোর কারণে স্বাভাবিকভাবে ময়লা ফেলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমনকি সম্প্রতি একটি গরু গুঁতো দিয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বর্জ্য বহনের গাড়িও ভেঙে ফেলে। বর্জ্যের স্তূপ থেকে এসব গরু আবার দল বেঁধে মূল সড়কে উঠে পড়ায় আশপাশের যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।

সড়কে যত্রতত্র গরু ঘুরে বেড়ানোর কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন রিকশা, বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল চালকেরা। সম্প্রতি নিরালা তাবলিগ মসজিদের কাছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়েন এক নারী শিক্ষক ও তাঁর স্বামী। হুট করে একটি গরু সামনে চলে এলে তা এড়াতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের মোটরসাইকেলের সাথে ধাক্কা লাগে, এতে দুজনই মারাত্মক রক্তাক্ত হন। এছাড়া নিরালা ও পিটিআই মোড়ের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাত-দিন বিভিন্ন দোকানের সামনে গরু মলত্যাগ করায় পরিবেশ মারাত্মক দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়ছে, যা তাঁদের ব্যবসার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করছে।
এসব গরু মোটেও বেওয়ারিশ নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। নগরের নিরালা ও টুটপাড়া এলাকার নির্দিষ্ট কয়েকজন খামারির মালিকানাধীন প্রায় অর্ধশতাধিক গরু নিয়মিত এভাবে উন্মুক্ত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও খামারিরা সেগুলোতে গোয়ালে আটকে রাখছেন না। এ বিষয়ে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও প্রশাসন কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ রয়েছে, কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সম্প্রতি ১৬ জন গরুর মালিককে চিহ্নিত করে সতর্কীকরণ নোটিশ জারি করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়, গবাদিপশু দিয়ে পরিবেশ বিনষ্ট করা এবং সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কেসিসির ভেটেরিনারি কর্মকর্তা পেরু গোপাল বিশ্বাস জানিয়েছেন, মালিকদের তালিকা চূড়ান্ত করে শিগগিরই অবাধ্য পশুগুলাকে কেসিসির খোঁয়াড়ে বাজেয়াপ্ত করাসহ আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে নগরবাসীর দাবি, নোটিশ আর চিঠিতে সীমাবদ্ধ না থেকে অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক।











































