Home স্বাস্থ্য পর্যাপ্ত পানিপানের পরেও শরীর পানিশূন্য, এই ৫ লক্ষণ দেখলে সতর্ক হোন

পর্যাপ্ত পানিপানের পরেও শরীর পানিশূন্য, এই ৫ লক্ষণ দেখলে সতর্ক হোন

4

মিলি রহমান।।

গরমে বারবার পানি খাচ্ছেন, তবু কি ক্লান্ত লাগছে? মাথাব্যথা হচ্ছে বা প্রস্রাবের রং অস্বাভাবিক গাঢ়? শুধু পানি পান করলেই যে শরীর সবসময় পর্যাপ্ত হাইড্রেটেড থাকবে, এমন নয়। অতিরিক্ত ঘাম, শরীর থেকে সোডিয়াম ও অন্যান্য খনিজ বেরিয়ে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত ইলেকট্রোলাইট না পাওয়ার কারণেও শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।

অনেক সময় তৃষ্ণা না লাগলেও শরীরে পানিশূন্যতা শুরু হয়ে যায়। তাই শরীরের কিছু ছোট ছোট সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক, পানি পান করার পরও কোন ৫টি লক্ষণ পানিশূন্যতার ইঙ্গিত দিতে পারে।

বিশ্রাম নিয়েও সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগছে

ভালোভাবে ঘুমানোর পরও যদি শরীর দুর্বল লাগে, কাজে মন বসে না কিংবা সামান্য কাজেই শক্তি ফুরিয়ে যায়, তাহলে শরীরে পানির ঘাটতি আছে কি না খেয়াল করুন। শরীরে তরলের পরিমাণ কমে গেলে রক্তসঞ্চালন ও শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছানোর প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে। ফলে দেখা দিতে পারে অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা।

বারবার মাথাব্যথা হচ্ছে

গরমে হঠাৎ মাথাব্যথা শুরু হওয়াও পানিশূন্যতার একটি লক্ষণ হতে পারে। শরীরে তরল কমে গেলে মাথাব্যথা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বাইরে দীর্ঘসময় থাকা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ না করার পর মাথাব্যথা হলে বিষয়টি অবহেলা না করাই ভালো। তবে সব ধরনের মাথাব্যথার কারণ পানিশূন্যতা নয়। নিয়মিত বা তীব্র মাথাব্যথা হলে অন্য কারণও বিবেচনা করতে হবে।

প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যাচ্ছে

শরীরে পানি আছে কি না বোঝার সহজ একটি উপায় হলো প্রস্রাবের রং ও পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা। পানি কমে গেলে শরীর পানি ধরে রাখার চেষ্টা করে। ফলে প্রস্রাব স্বাভাবিকের তুলনায় গাঢ় হলুদ ও ঘন হতে পারে এবং প্রস্রাবের পরিমাণও কমে যেতে পারে। তাই সারাদিন পানি খাওয়ার পরও যদি প্রস্রাবের রং বেশ গাঢ় থাকে, তাহলে শরীরের পানির ভারসাম্য ঠিক আছে কি না খেয়াল করুন।

মনোযোগ ধরে রাখতে কষ্ট হচ্ছে

কাজ করতে বসে বারবার মন অন্যদিকে চলে যাচ্ছে? সহজ বিষয়েও মনোযোগ দিতে কষ্ট হচ্ছে কিংবা মাথা যেন ঝিমঝিম করছে? শরীরে পানির ঘাটতি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে মনোযোগ, সতর্কতা ও মানসিক কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই গরমের দিনে হঠাৎ ‘ব্রেন ফগ’ বা মানসিকভাবে ধীর লাগলে শুধু ঘুমের অভাব নয়, পানিশূন্যতার কথাও মাথায় রাখা উচিত।

পানি খাওয়ার পরও তৃষ্ণা বা দুর্বলতা যাচ্ছে না

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অনেক পানি পান করার পরও যদি বারবার তৃষ্ণা লাগে, শরীর দুর্বল লাগে বা হাইড্রেটেড মনে না হয়, তাহলে শুধু পানির ওপর নির্ভর না করে শরীরের ইলেকট্রোলাইটের দিকেও নজর দিতে হবে। অতিরিক্ত ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে পানি ছাড়াও সোডিয়াম ও অন্যান্য খনিজ বেরিয়ে যায়। ফলে কিছু পরিস্থিতিতে শুধু পানি পান করলেই শরীরের তরল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য পুরোপুরি ফিরতে নাও পারে।

গরমে কেন পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে

প্রচণ্ড গরমে শরীর নিজেকে ঠান্ডা রাখতে ঘাম তৈরি করে। এতে শরীর থেকে দ্রুত পানি ও কিছু খনিজ বেরিয়ে যায়। এই হারানো তরল ও ইলেকট্রোলাইট যথাযথভাবে পূরণ না হলে ধীরে ধীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। শুরুতে শুধু ক্লান্তি বা মাথাব্যথার মতো সামান্য লক্ষণ দেখা গেলেও অবস্থা গুরুতর হলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং কিডনির ওপর চাপ পড়ার মতো সমস্যাও হতে পারে।

যেসব খাবার জরুরি : শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক রাখতে কেবল পানি পান নয় কিছু খাবার খেতে পারেন। পানিসমৃদ্ধ খাবার খাওয়াও উপকারী হতে পারে। দৈনন্দিন খাবারে রাখতে পারেন— শসা, টমেটো, লেটুস, তরমুজ, বাঙ্গি, কমলা, আঙুর

এ ধরনের ফল ও সবজিতে পানির পরিমাণ বেশি থাকে। পাশাপাশি কিছু খাবার শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজও সরবরাহ করে। গরমের দিনে দীর্ঘসময় পানি পান না করে থাকা ঠিক নয়। নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করুন। অতিরিক্ত ঘাম হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনও ভাবেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ইলেকট্রোলাইটযুক্ত পানীয় পান করা যাবে না।