স্পোর্টস ডেস্ক।।
নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে আগের ম্যাচেও শেষ সময়ে গোল করে পরাজয় এড়িয়েছিল লিভারপুল। এবার অ্যানফিল্ডেও একই চিত্র। শনিবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্র করেছে তারা। ফলে টানা দুই ম্যাচে একই ব্যবধানে ড্র করে কোনো রকমে হার এড়াল অল রেডরা।
নটিংহ্যাম ফরেস্টের কোচ আন্দোনি ইরাওলার জন্য সময়টা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। লিভারপুলের বিপক্ষে ভালো শুরু করেও শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিতে পারেনি তার দল। প্রথমার্ধে ড্যান এন্দোয়ের গোলে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। বিরতির পর ৬০ মিনিটে আলেক্সান্দার আইসাক গোল করে লিভারপুলকে সমতায় ফেরান।
এরপর গোলকিপার আলিসনের ফাউলে পেনাল্টি পায় ফরেস্ট। মর্গান গিবস-হোয়াইট স্পট কিক থেকে গোল করে আবারও সফরকারীদের এগিয়ে দেন। মনে হচ্ছিল, অ্যানফিল্ড থেকে টানা তৃতীয় জয় নিয়েই ফিরবে ফরেস্ট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশা পূরণ হতে দেননি ভিক্টর মুনোজ। লিভারপুলের হয়ে ঘরের মাঠে অভিষেকেই নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আট মিনিট আগে গোল করে দলকে এক পয়েন্ট এনে দেন তিনি।
ম্যাচের শুরু থেকেই কিছুটা অগোছালো ছিল লিভারপুল। প্রথমার্ধে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হয় তাদের। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২৪ মিনিটে গোল করেন এন্দোয়ে। এরপর ফরেস্ট রক্ষণ জমাট করে দ্রুত পালটা আক্রমণে লিভারপুলের ওপর চাপ তৈরি করতে থাকে।
বিরতির আগেই সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিকরা। ফ্লোরিয়ান উইর্টজের গোল উদযাপনও শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করা হয়। গোলের আক্রমণ তৈরির সময় জেরেমি ফ্রিমপং অফসাইডে থাকায় লিভারপুলের সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ম্যাচে ফিরতে বেশি সময় নেয়নি লিভারপুল। কডি গাকপো দুই ডিফেন্ডারকে পাশ কাটিয়ে বক্সের ভেতর বল বাড়িয়ে দেন আইসাকের দিকে। ৬০ মিনিটে কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে স্কোর ১-১ করেন সুইডিশ ফরোয়ার্ড।
তবে ১০ মিনিট পরই আবার বিপদে পড়ে লিভারপুল। নিকো উইলিয়ামসকে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে ফাউল করেন আলিসন। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। গিবস-হোয়াইট স্পট কিক থেকে আলিসনকে ভুল দিকে পাঠিয়ে বাঁ কোণের জালে বল জড়িয়ে ফরেস্টকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
ম্যাচের শেষ দিকে অ্যানফিল্ডে বাড়তে থাকে উত্তেজনা। হার এড়াতে মরিয়া লিভারপুল তখন একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। অবশেষে ৮২ মিনিটে উইর্টজের বাড়ানো বলে দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দেখান মুনোজ। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রায় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে শক্তিশালী শটে ফরেস্ট গোলরক্ষক মাৎজ সেলসকে পরাস্ত করেন তিনি।
মুনোজের সেই গোলেই শেষ পর্যন্ত ২-২ সমতায় ম্যাচ শেষ হয়। ফলে ঘরের মাঠে আরেকটি পরাজয় থেকে রক্ষা পেল লিভারপুল।









































