বিএনপির কার্যালয়ে বোমা হামলা ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি
খবর বিজ্ঞপ্তি।।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএর চেয়ারম্যান এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর যারা পেছনের দরজা দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার দিবা স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের রায়ে প্রত্যাখাত হয়ে পরাজিত হয়েছেন, তারাই আজ রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও অশান্ত করার গভীর পায়তারায় লিপ্ত রয়েছেন। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদ এবং মহানগর শ্রমিক দলের সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফি বানের পানিতে ভেসে আসেননি। বিগত ১৭টি বছর স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট বিরোধী রাজপথের প্রতিটি রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে তারা বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন। অসংখ্য মিথ্যা মামলা, হামলা ও নির্যাতনকে উপেক্ষা করে তারা দলের মূল কাণ্ডারী হিসেবে রাজপথে ছিলেন। আজ তাদের বিরুদ্ধে যারা সুগভীর ষড়যন্ত্র করছেন, অনতিবিলম্বে সেই সকল চক্রান্তকারীদের মুখোশ উন্মোচন করে খুঁজে বের করতে হবে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৫টায় নগরীর কদমতলা এলাকায় ২১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে বোমা হামলা এবং বিএনপি নেতা মোল্লা ফরিদ আহমেদ ও শ্রমিক দল নেতা শফিকুল ইসলাম শফির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বক্তব্যে এড. শফিকুল আলম মনা আরও বলেন, যাঁরা রাজপথের ত্যাগী বিএনপি নেতা মোল্লা ফরিদ ও শফির বিরুদ্ধে হঠাৎ মিছিল বের করেছেন, গভীর অনুসন্ধানে দেখা যাবে তারাই ২১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি অফিসে কাপুরুষোচিত বোমা হামলায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। ওই মিছিলের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখলেই অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব। পুলিশ প্রশাসনকে ছবি দেখে অবিলম্বে এই চিহ্নিত চক্রান্তকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলে, ৭১ ও ২৪-এর পরাজিত অপশক্তিরা আজ একজোট হয়ে নতুন করে গভীর চক্রান্ত ও অপপ্রচারে মেতে উঠেছে। রাজপথের ত্যাগী নেতা মোল্লা ফরিদ ও শফির জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একশ্রেণীর ষড়যন্ত্রকারী রাজনৈতিক নোংরা খেলায় নেমেছে। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হলেও তার পেতাত্মারা এখনো প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ও সমাজে সক্রিয় রয়েছে। এই পেতাত্মারাই আজ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করতে এবং শান্ত খুলনাকে অশান্ত করতে নানা চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বিএনপি এবং এর ত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধে অবলীলায় মিথ্যাচার করছে।

অনতিবিলম্বে এই চিহ্নিত চক্রান্তকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি, একশ্রেণীর তথাকথিত ‘ফেসবুক সাংবাদিক’ বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের কাছ থেকে অনুচিত সুবিধা নিয়ে প্রতিনিয়ত সমাজে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা সরকারি অনুমোদন ছাড়াই এরা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, অথচ এদের সাংবাদিকতার ন্যূনতম কোনো ভিত্তি নেই। অপপ্রচারে লিপ্ত এই ভুঁইফোড় ফেসবুক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মূলত যারা ২১ নম্বর ওয়ার্ডে নিজেদের কায়েমি সাম্রাজ্য বিস্তার করতে ব্যর্থ হয়েছে, তারাই আজ প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে মোল্লা ফরিদ ও শফির বিরুদ্ধে মনগড়া মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছে। এদের কোনো ষড়যন্ত্রই খুলনার মাটি ও মানুষের নেতা-কর্মীদের স্তব্ধ করতে পারবে না।

২১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবু সাঈদ শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন সদর থানা বিএনপির সভাপতি কে এম হুমায়ূন কবীর, মোল্লা ফরিদ আহমেদ, শফিকুল ইসলাম শফি, মিজানুর রহমান মিলটন, ইসতিয়াক আহমেদ ইস্তি, মো. নাসির উদ্দিন, জাকির ইসলাম বাপ্পি, শেখ মনিরুজ্জামান মনির, গাজী আফসার উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম জোয়ারদার জলি, ইফতেখার হোসেন বাবু, মাসুদুল হক হারুন, এস এম নুরুল আলম দীপু, সালাহউদ্দিন মোল্লা বুলবুল, মঞ্জুরুল আলম, আমিন আহমেদ, মোল্লা নুরুল ইসলাম, নাজমুস সাকিব, সওগাতুল আলম সগির, জহিরুল ইসলাম খান, মঈনুল ইসলাম কিরন, মোঃ শাহিনুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান খান আপন, মৌফারসের আলম লেনিন, মফিজুল ইসলাম, জামির হোসেন প্রধান দীপু, মাস্টার শফিকুল ইসলাম, মেহেদী হাসান লিটন, শেখ সরোয়ার, জি এম মঈন উদ্দিন, সৈয়দ মুরাদ হোসেন, এ বি এম জাকির হোসেন, বাবুল রানা, ফয়েজ আহমেদ, আমিন হোসেন, কাওসারী জাহান মঞ্জু, রাশিদা আক্তার ময়না, আলতাফ খান, জাহাঙ্গীর আলম, দেলোয়ার আকন, জালাল আহমেদ, সাহিদুল ইসলাম, কামাল আহমেদ, হাসান আলী বাবু, রুবেল জমাদ্দার, আসাদুজ্জামান, ফারুক আহমেদ, রিপন আকন, আলতাফ হোসেন, ইকবাল হোসেন, রুহুল আমীন সুমন, কামরুল ইসলাম, মুহসিন খান, জাহিদুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান, রাজিব মিস্ত্রী, আবু সরদার, কাওসার, শাহিন প্রমূখ। প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল স্টেশন রোড হয়ে হেলাতলার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।











































