বিশেষ প্রতিনিধি।।
দীর্ঘায়িত ও অনিশ্চিত মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কায় নতুন করে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ববাজারে জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল ও খাদ্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম এবং সমুদ্রপথে পরিবহন ঝুঁকি বৃদ্ধির ফলে দেশে মূল্যস্ফীতি ও উৎপাদন খরচ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, এই সংকট দীর্ঘ হলে বাংলাদেশে অন্তত ৬ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষের দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, চলতি বছর প্রায় ১৭ লাখ মানুষের দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও যুদ্ধের প্রভাবে তা ৫ লাখে নেমে আসতে পারে। বাংলাদেশের জ্বালানি কাঠামোর দুর্বলতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
উল্লেখ্য, দেশের ব্যবহৃত মোট অপরিশোধিত তেলের ৬০-৬৫ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ৫৫-৬০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করতে হয়। বিশ্ববাজারে তীব্র অস্থিতিশীলতার কারণে বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জ্বালানি ভর্তুকির বোঝা বেড়ে ২.৫ বিলিয়ন থেকে ৪.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। জ্বালানি ও তীব্র গ্যাস-সংকটের প্রভাবে ইতোমধ্যেই দেশের ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে পাঁচটিতেই উৎপাদন বন্ধ রয়েছে, যা কৃষি উৎপাদনকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলছে।
পাশাপাশি তৈরি পোশাক ও অন্যান্য শিল্পকারখানায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ-বিভ্রাট ও জ্বালানি ঘাটতির কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক উৎপাদন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে জানান, কারখানা বন্ধ হওয়া ও কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ার যে চিত্র বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, তা বিশ্বব্যাংকের কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্যবিষয়ক আশঙ্কারই বাস্তব প্রতিফলন।










































