স্টাফ রিপোর্টার।।
মা-বাবার বিয়ের বহু বছর পর পৃথিবীতে আসা রিয়া মজুমদার চলতি মাসে প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন। শিক্ষক দম্পতির ‘শত সাধনার’সেই মেয়ে শনিবার (২৯ আগস্ট) মারা গেছেন মাত্র কয়েক দিনের ডেঙ্গুতে।
রিয়ার বাড়ি খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার সাহসপুর গ্রামে। তার ছোট একটি বোন রয়েছে। রিয়া এবার এসএসসি পরীক্ষার সব বিষয়ে এ প্লাস পাওয়ার পর খুলনা শহরে মেসে ওঠেন। আগেভাগেই একাদশ শ্রেণির পড়াশোনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শহরের সেই মেসেই হানা দেয় ডেঙ্গু।
রিয়ার স্কুলের শিক্ষক কৃষ্ণপদ বিশ্বাস জানান, একে একে রিয়াসহ মেসে থাকা মোট তিন বান্ধবীর ডেঙ্গু হয়। রিয়ার কাছে বেড়াতে যাওয়া তার বাবারও ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এই চারজন সুস্থ হলেও রিয়াকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হলো।
রিয়ার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ডেঙ্গু পরীক্ষায় পজিটিভ আসে। সেদিন প্ল্যাটিলেট ছিল ১ লাখ ৭৪ হাজার। তবে জ্বর এসেছিল আরও কয়েক দিন আগে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রিয়ার প্ল্যাটিলেট পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা এখনো জানা যায়নি।
খুলনায় ডেঙ্গু ধরা পড়ার পর রিয়াকে বাগেরহাটে নিয়ে আসেন তার মা-বাবা। সেখানে চাচার বাসায় রেখে চিকিৎসা চলতে থাকে। একই চিকিৎসকের কাছে রিয়ার বাবা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন।
শিক্ষক কৃষ্ণপদ বিশ্বাস বলেন, ‘ওর বাবা-মা এখন স্তব্ধ। তাই বিস্তারিত বলতে পারছি না। যতটুকু শুনেছি, বাগেরহাট পুরাতন রেলরোডের পাশে ওর কাকার (চাচা) বাসা। সেখানে বাসার পাশে কোনো একজন ডাক্তার আছেন। আমার কাছে মনে হচ্ছে, তিনি অতটা ভালো চিকিৎসক নন। কিন্তু ওর মা-বাবা ভেবেছেন, কাছাকাছি থাকলে মেয়ের সেবা করা সহজ হবে। শুক্রবার দুপুরেও রিয়া হাসিখুশি ছিল। বিকেলে খিঁচুনি উঠলে খুলনায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর খবরে আমাদের কয়েকটি গ্রাম থমকে গেছে। ওর মতো মেধাবী মেয়ে আমার চাকরিজীবনে কম পেয়েছি।’
রিয়া ছোটবেলা থেকেই দারুণ মেধাবী। স্কুলে বিতর্ক প্রতিযোগিতার সর্বশেষ আসরে সেরা বিতার্কিকের পুরস্কার পান। বার্ষিক এই ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রিয়া নাচ, গান, কবিতা, উপস্থিত বক্তৃতা এবং বিতর্ক-সবগুলো ইভেন্টে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
রিয়ার এক সহপাঠী জানিয়েছেন, গ্রাম থেকে খুলনায় গিয়ে কলেজে ভর্তি হওয়ার স্বপ্নে তিনি বিভোর ছিলেন। কোন কলেজে ভর্তি হবেন, কোথায় থাকবেন-এসব পরিকল্পনা করছিলেন।
খুলনার স্থানীয়দের অভিযোগ, এ বছর শহরে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক বেড়েছে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের সেদিকে কোনো নজর নেই।
রিয়ার বাবা দিবস মজুমদার ও মা রমা রাণী দুজনই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। বাড়ির ঠিক পাশে সাহসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুজনে কর্মরত। তারুণ্যের ভালোবাসা পেরিয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তারা ঘর বাঁধেন। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতে চিকিৎসা শেষে রিয়ার জন্ম হয়। সেই রিয়া হারিয়ে গেল ডেঙ্গুতে।









































