Home আলোচিত সংবাদ নেপালে ভয়াবহ বন্যার আগে চীন সতর্ক করেনি: সাবেক মন্ত্রী

নেপালে ভয়াবহ বন্যার আগে চীন সতর্ক করেনি: সাবেক মন্ত্রী

1

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের আগে চীনের কাছ থেকে কোনো সময়োপযোগী সতর্কবার্তা পায়নি নেপাল। এমন দাবি করেছেন দেশটির সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী মাধব প্রসাদ চৌলাগাইন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে বরফ, পাথর ও কাদার ভয়াবহ স্রোত নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আঘাত হানার আগে চীনের পক্ষ থেকে নেপালকে কোনো আগাম সতর্কতা দেওয়া হয়নি।

চৌলাগাইনের মতে, দুই দেশের মধ্যে দুর্যোগসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানে ঘাটতির কারণে এই বিপর্যয়ে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি হিমবাহসংক্রান্ত ঘটনার পর নেপাল ও চীনের মধ্যে আগাম সতর্কতা এবং তথ্য বিনিময়ের একটি ব্যবস্থা নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু এবারের ঘটনায় সেই ব্যবস্থা কাজে লাগানো হয়নি।

বন্যার উৎপত্তি নিয়ে ভিন্ন দাবি
বন্যার সূত্রপাত নেপালের ভূখণ্ডে হয়েছিল বলে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে যে দাবি করা হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন চৌলাগাইন। তার দাবি, বিপর্যয়ের সূত্রপাত তিব্বতের দিকেই। তবে এ বিষয়ে আরও তথ্য, তদন্ত ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চৌলাগাইন বলেন, নেপালের বিদ্যমান আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা মূলত হিমবাহের হ্রদ থেকে সৃষ্ট সম্ভাব্য বন্যার ঝুঁকি শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেয়। কিন্তু এবারের ঘটনায় বরফ ও পাথরের বিশাল ধসের পর নদীপথে ভয়াবহ জল ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত তৈরি হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি আগের ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রস্তুতির মধ্যে যথেষ্টভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলেও তিনি জানান।

তার মতে, নেপাল, চীন ও ভারতের মধ্যে কার্যকর আঞ্চলিক আগাম সতর্কতা ও তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা থাকা জরুরি। সীমান্তপারের দুর্যোগের ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য সময়মতো বিনিময় না করাকে তিনি ‘মানবতার পরিপন্থী’ বলেও মন্তব্য করেন।

নেপালে মৃত ৬২৬, নিখোঁজ ২,৪২৬
এদিকে নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে শনিবার (২৯ আগস্ট) পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (NDRRMA) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এখনো ২ হাজার ৪২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় বরফ ও পাথরের ধসের পর ভয়াবহ জল ও কাদার স্রোত নেমে আসে। এতে বাড়িঘর, সড়ক, সেতু এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

চতুর্থ দিনেও দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। শনিবারের (২৯ আগস্ট) হিসাবে ৪ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং উদ্ধারকাজে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন রয়েছে।

চলমান বিপর্যয়ের মধ্যে নেপাল ভারত ও চীনের কাছেও বিশেষায়িত উদ্ধার সহায়তা চেয়েছে। বিশেষ করে ধসে পড়া স্থাপনা ও টানেল থেকে মানুষ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম চাওয়া হয়েছে।