Home স্বাস্থ্য ঈদের পর কীভাবে ফিরবেন ফিটনেস রুটিনে

ঈদের পর কীভাবে ফিরবেন ফিটনেস রুটিনে

1


মিলি রহমান।।

ঈদ মানেই উৎসব, আনন্দ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে বিশেষ সময় কাটানো। এই দিনে ঘরে ঘরে থাকে বাহারি সব খাবারের আয়োজন। বিরিয়ানি, কাবাব, চিকেন টিক্কা, কোরমাসহ গরু ও খাসির নানা পদ যেন ঈদের টেবিলকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়।

তবে এই আনন্দঘন আয়োজনের মাঝেই অজান্তেই অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে যায়। বিশেষ করে প্রোটিনসমৃদ্ধ ও তেল-চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খাওয়ার কারণে শরীরে ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে হজমের সমস্যা, অস্বস্তি, ক্লান্তি এমনকি দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধি বা অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিও দেখা দিতে পারে।

তাই ঈদের পর আবার শরীরকে ফিট ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা জরুরি। কিছু সহজ অভ্যাস অনুসরণ করলেই এটি সম্ভব।

ধীরে ধীরে শুরু করুন

ঈদের পর হঠাৎ করেই কঠোর ব্যায়াম শুরু করা ঠিক নয়। এতে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ইনজুরির ঝুঁকি বাড়ে। তাই শুরুতে হালকা ব্যায়াম দিয়ে শুরু করুন। ধীরে ধীরে শরীর অভ্যস্ত হলে ব্যায়ামের সময় ও তীব্রতা বাড়াতে পারেন। এছাড়া জুম্বার মতো নাচও অতিরিক্ত ক্যালরি ঝরাতে দারুণ সহায়ক।

খাওয়ার পর হাঁটুন

খাবারের পরে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটি হজমে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত ক্যালরি ঝরাতেও সাহায্য করবে। চাইলে জাম্পিং জ্যাক, প্ল্যাঙ্ক, ক্রাঞ্চ বা স্কোয়াটের মতো সহজ ব্যায়ামও যুক্ত করতে পারেন।

যোগব্যায়ামের অভ্যাস গড়ুন

যোগব্যায়াম সব বয়সীদের জন্য উপকারী। এটি শরীর ও মনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে। নিয়মিত যোগব্যায়াম করলে শরীর নমনীয় থাকে এবং অতিরিক্ত মেদ কমাতেও সাহায্য করে।

খাবারের দিকে নজর দিন

ঈদের সময় ভারী ও তেল-চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া হয়। তাই রুটিনে ফেরার প্রথম ধাপ হওয়া উচিত খাদ্যাভ্যাস ঠিক করা। বেশি করে পানি পান করুন, শাকসবজি, ফল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান। অতিরিক্ত মিষ্টি ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন

ফিটনেস রুটিনে ফিরে আসতে হলে একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা জরুরি। প্রতিদিন একই সময়ে ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুললে তা দ্রুত রুটিনে পরিণত হয়। সকালে বা সন্ধ্যায় নিজের সুবিধামতো সময় বেছে নিন।

পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন

শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঈদের সময় ঘুমের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা ধীরে ধীরে ঠিক করুন। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ভালো ঘুম শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং ফিটনেস রুটিন বজায় রাখতে সহায়তা করে।

ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

একসঙ্গে বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করলে তা পূরণ করা কঠিন হয়ে যায়। তাই ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন। যেমন-প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিন ২০ মিনিট হাঁটা, এরপর ধীরে ধীরে সময় বাড়ানো। এতে মোটিভেশন বজায় থাকবে।