ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।।
ঝিনাইদহে আশির দশকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে খনন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল আবারও পুনরুজ্জীবিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ভরাট হয়ে পড়া ওই খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার কৃষি উৎপাদন ও সেচব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খাজুরা এলাকা থেকে হরিণাকুন্ডু উপজেলার কন্যাদহ গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত “২ডি-৭এন” নামে পরিচিত মৃতপ্রায় খালটি আজ সোমবার পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করবেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, তিনটি প্যাকেজে মোট ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে খালটির ৫ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হবে। এতে বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে।
ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস জানান, শুনেছি আশির দশকে স্থানীয় কৃষি উন্নয়ন ও পানি ব্যবস্থাপনার কথা চিন্তা করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে এই খালটি খনন করেন। তখন এই খালের একংশের নাম ছিল “শিরিষকাঠ খাল”। সে সময় খালটি এলাকার কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। নব্বই দশকে আবারো খালটি খনন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে খালটি ভরাট হয়ে পড়ায় খালে পানি নিস্কাষনের কার্যকারিতা কমে গেছে।
তিনি আরও জানান, খালটি পুনঃখনন শেষ হলে দুই উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি এলাকার পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
খাজুরা গ্রামের কৃষক লোকমান হোসেন জানান, খালটি সচল হলে একদিকে জলাবদ্ধতা নিরসন হবে, অন্যদিকে শুকনো মৌসুমে সেচের জন্য পানি পাওয়া সহজ হবে। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন বাড়বে বলে তারা আশা করছেন। খালটি খননের খবরে দুই উপজেলার মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
কন্যাদহ গ্রামের কৃষক আজাদ রহমান পাননু জানান, এক সময় যে খাল কৃষি ও জনজীবনের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছিল, পুনঃখননের মাধ্যমে তা আবারও জীবন্ত হয়ে উঠবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা সেই উন্নয়ন উদ্যোগ নতুন করে এলাকার কৃষি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।











































