Home আঞ্চলিক নদীপথে বেড়েছে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান: সিন্ডিকেটের মূল হোতা শাহ আলম

নদীপথে বেড়েছে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান: সিন্ডিকেটের মূল হোতা শাহ আলম

28


সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী কালিন্দী নদীপথ দিয়ে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চোরাচালান চক্রের মূল হোতা হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত শাহ আলম নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযুক্ত শাহ আলম শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের মেন্দিনগর গ্রামের প্রয়াত সিদ্দিক গাজীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি ও সন্ত্রাসী চক্র সীমান্তবর্তী নদীপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে মাদক ও অস্ত্র বাংলাদেশে পাচার করে আসছে। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত হিসেবে যাদের নাম স্থানীয়ভাবে উঠে এসেছে তারা হলেন—কৈখালী ইউনিয়নের নৈকাটি আস্তাখালী গ্রামের মান্নাত আলীর ছেলে বিল্লু, একই গ্রামের সুরত আলী গাজীর ছেলে অয়েজকুরনি বিদ্যুৎ, পুরাখালী গ্রামের কাশেম গাজীর ছেলে সাইদ আলী, নিদয়া গ্রামের লিয়াকত হোসেনের ছেলে হাবিবুর রহমান ও হাফিজুর রহমান, নৈকাটি গ্রামের শহীদুল গাজীর ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান এবং মুনছুর আলী গাজীর ছেলে আমিনুর রহমান (রোকন)। স্থানীয়দের দাবি, ভারত সীমান্তবর্তী কালিন্দী নদীপথ ব্যবহার করে রাতের আঁধারে নৌকা কিংবা সাঁতার দিয়ে অবৈধভাবে ফেন্সিডিল, মদ, গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বাংলাদেশে আনা হয়। ভারতের কানাইকাটি ও সিদারকাটি ঘাট থেকে এসব মাদক ও অস্ত্র কৈখালী সীমান্ত ঘেঁষা কালিন্দী নদীপথ দিয়ে নৈকাটি হুলোর ঘাট এবং মাঝেরআটি-আস্তাখালী ঘাট হয়ে দেশে প্রবেশ করে। স্থলপথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ায় চোরাকারবারিরা এখন নদীপথকে প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নদীপথে তুলনামূলক ঝুঁকি কম থাকায় বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে সহজেই বড় বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। পরে এসব মাদক ও অস্ত্র দেশের বিভিন্ন এলাকায় চড়া দামে বিক্রি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই অবৈধ ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থের বড় অংশ পেয়ে থাকেন শাহ আলম।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ভারত থেকে পাচার করে আনা অস্ত্র ব্যবহার করে শাহ আলমের নেতৃত্বে এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। ফলে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি সোমবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালিগঞ্জ সেনা ক্যাম্প ও ১৭ বিজিবির সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাত প্রায় ২টা ৩০ মিনিটে শ্যামনগর উপজেলার নিদয়া গ্রামের লিয়াকত হোসেনের ছেলে হাবিবুর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়। অভিযানে হাবিবুর রহমানের বাড়ির সামনে ধানের গোলার ভেতর থেকে একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র এবং বাড়ির ভেতর থেকে কয়েকটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, তিনটি রামদা এবং একটি এসএস পাইপ। পরদিন ২৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আটক হাবিবুর রহমানকে উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ ১৭ বিজিবির মাধ্যমে শ্যামনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্ত শাহ আলম ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অস্ত্রের বিস্তার আরও বাড়বে এবং যুবসমাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর দাবি, কালিন্দী নদীপথে নজরদারি জোরদার করে এই চোরাচালান সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহ আলম তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।