শাহ তানভীর আহমেদ।।
খুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আবারও ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। গত চারদিনে তিনজনকে প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী মাত্র ১৫ দিনে গুলি, ককটেল বিস্ফোরণে মৃত্যু, চাঁদাবাজি নিয়ে কুপিয়ে জখম এবং একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ খুলনার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সাব্বির সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে আহত করেছেন দুর্বৃত্তরা।
জানা গেছে, খুলনা মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় হঠাৎ করেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরেই এসব হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নগরীর লবনচরা, টুটপাড়া, নিরালা এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী দিঘলিয়া ও তেরখাদা উপজেলায় সহিংসতার মাত্রা সবচেয়ে বেশি।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তেরখাদা থানার মধুপুর গ্রামে ইদ্রিস মোল্যা ও ইরাদত মোল্যা গ্রুপের সঙ্গে জাকির মুন্সী, মোস্তফা মোল্যা ও ইসরাইল মোল্যা গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উভয়পক্ষ দেশীয় তৈরি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বোমা বিস্ফোরণ ঘটনায় মামুন মোল্লা গুরুতর আহত হন। রবিবার গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মামুন ইদ্রিস মোল্লা গ্রুপের সমর্থক।
তেরখাদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শহিদুল্লাহ জানান, বোমা বিস্ফোরণ নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য রয়েছে। পুলিশ বিষয় তদন্ত করছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) রাতে নগরীর বাগমারা জাহিদুর রহমান সড়কে আ. আজিজ (৩৫) নামে এক যুবককে মোটরসাইকেলে এসে প্রথমে গুলি ও পরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পর রাত ২টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
খুলনা সদর থানার ওসি মো. কবীর হোসেন জানান, নিহত আজিজ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে। এর একদিন আগে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও দুই পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয় যুবদল নেতা খান মুরাদকে। বাজারের ইজারার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তারও একদিন আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর আফিল গেট এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয় শেখ সোহেল (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে। খানজাহান আলী থানা পুলিশের দাবি, নিহত সোহেল নিজেও একাধিক হত্যা ও অস্ত্র মামলার আসামি এবং চরমপন্থি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এদিকে তেরখাদায় নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষে ককটেল নিক্ষেপের সময় বিস্ফোরণে দগ্ধ আল মামুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ মারা যান।
এছাড়া লবনচরায় যুবককে গুলি, বাগমারা ব্যাংকারস গলিতে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই এবং দৌলতপুরে বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় নগরজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. রাশিদুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচনের পর কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
তবে ধারাবাহিক সহিংসতায় নগরবাসীর মনে প্রশ্ন—খুলনা কি আবারও রক্তাক্ত রাজনীতির নগরীতে পরিণত হচ্ছে?










































