Home Lead প্রাকৃতিক খাদ্য রং ও ডাই : সম্ভাবনার স্বপ্ন উদ্যোক্তা ও কৃষি বিপণনের

প্রাকৃতিক খাদ্য রং ও ডাই : সম্ভাবনার স্বপ্ন উদ্যোক্তা ও কৃষি বিপণনের

4


স্টাফ রিপোর্টার
।।


প্রকৃতিবান্ধব ও স্বাস্থ্যকর পণ্যের বিশ্বব্যাপী চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও তৈরি হচ্ছে প্রাকৃতিক ফুড কালার এবং ভেজিটেবল ডাইয়ের (রঞ্জক) নতুন সম্ভাবনা। ক্ষতিকর রাসায়নিক রঙের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং একই সঙ্গে বিদেশে প্রাকৃতিক রং রপ্তানির নতুন স্বপ্ন দেখছেন দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষি উদ্যোক্তারা।


সরকারের কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং ‘বিশুদ্ধ অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’-এর সহযোগিতায় দেশের উদ্যোক্তাদের দক্ষ করে তুলতে বাস্তবায়িত হচ্ছে বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচি।


২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ‘কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা’ খাতের ৫৩ লাখ ৬৫ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দে এই কর্মসূচির আওতায় ১৫টি জেলা থেকে নির্বাচিত ৫০ জন উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রত্যেককে প্রসেসিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের স্টিম মেশিন, ১০ হাজার টাকা মূল্যের ব্লেন্ডার এবং ১০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ইনফ্রারেড বা ইন্ডাকশন চুলা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৫০ জন উদ্যোক্তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩ জন খুলনার।
এ ছাড়া বাগেরহাটের ১০ জন, যশোরের ৪ জন, বগুড়ার ৪ জন, পাবনার ২ জন এবং ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও টাঙ্গাইলসহ অন্যান্য ৯টি জেলা থেকে ১ জন করে উদ্যোক্তা এতে অংশ নেন।


গাজীপুরের কাপাসিয়ার নারী উদ্যোক্তা শাহনাজ বেগম বলেন, ‘ন্যাচারাল রং শুধু স্বাস্থ্যসম্মতই নয়, দেশের কোটি কোটি টাকার ক্ষতিকর রঙ আমদানি কমাবে। জনসচেতনতা ও সঠিক বিপণন নিশ্চিত করা গেলে এ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।’


খুলনার উদ্যোক্তা সালমা বেগম জানান, প্রশিক্ষণে ড্রাগন ফল, গাজর, বিটরুট ও অপরাজিতা ফুল থেকে প্রাকৃতিক ফুড কালার এবং গোলাপের পাপড়ি, কাঁচা হলুদ ও অর্জুন গাছের বাকল থেকে কাপড় রঞ্জন বিদ্যা শিখেছেন তারা।

এতে করে শিশুদের রঙিন খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন কমবে, তেমনি তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান।
যশোরের সফল নারী উদ্যোক্তা মুসলিমা খাতুনও আশাবাদী। তিনি জানান, বর্তমানে ব্যাবসায়িক আয় থেকে সরকারকে বছরে ১০-১২ লাখ টাকা ট্যাঙ্ দিচ্ছেন। প্রাকৃতিক রঙের এই নতুন উদ্যোগ সফল হলে কর প্রদানের এই পরিমাণ দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রয়েছে তার।


সম্প্রতি ২০২৪ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশের নর্থ প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে টমেটো (লাইকোপেন), গাজর (ক্যারোটিন) এবং হলুদ (কারকিউমিন) থেকে খুব কম খরচে নিরাপদ খাদ্য রঙ নিষ্কাশনের সফল প্রযুক্তির কথা।


গবেষণায় বলা হয়, এ রংগুলো খাবারের আকর্ষণ বাড়ানোর পাশাপাশি ক্যান্সার-বিরোধী ও রোগ-প্রতিরোধক হিসেবেও কাজ করে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (গাজীপুর) সাবেক মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. হারুনর রশিদ জানান, কৃত্রিম রঙে ব্যবহৃত কোল টার বা পেট্রোকেমিক্যাল শিশুদের জটিল রোগের কারণ। কাপড়ের ক্যামিক্যাল রঙ থেকেও তৈরি হচ্ছে চর্মরোগ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘ভবিষ্যতে নবজাতকের ব্যবহৃত প্রথম কাপড়টিও যেন ভেজিটেবল রঙের হয়-আমরা এখন সেই স্বপ্ন দেখছি।’


কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের উপপরিচালক মোছা. শাহনাজ বেগম এবং সহকারী প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান জানান, সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে এই প্রকল্পে কাজ করছে। উদ্যোক্তারা নিয়মিত উৎপাদন ও বিপণনে সফল হলে এটি জাতীয় কৃষি অর্থনীতিতে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে এবং রপ্তানি খাতে উন্মোচন করবে নতুন এক সম্ভাবনার পথ। তথ্য সূত্র: কালের কণ্ঠ অনলাইন