আশাশুনি প্রতিনিধি
প্রলয়ংকরী আইলার দীর্ঘ দেড় দশক পরেও ভাগ্য ফেরেনি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের মানুষের। কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে ইউনিয়নের চার গ্রামের যোগাযোগের একমাত্র ১২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটি এখন হাঁটুসমান কাদায় পুরোপুরি কর্দমাক্ত, ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। জানা গেছে, প্রতাপনগর ইউনিয়নের প্রতাপনগর থেকে রুইয়ারবিল, সুভদ্রাকাটি হয়ে চাকলা পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি ঘূর্ণিঝড় আইলার পর থেকে স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি।
একইসঙ্গে চার গ্রামের ভেতর ওই সড়ক সংশ্লিষ্ট আরও পাঁচটি গ্রামীণ কাঁচা সড়ক সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা শুরু হওয়ার পর সেই খানাখন্দ কাদা ও পানিতে ভরে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে হাতে জুতা নিয়ে খালি পায়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করে। শুধু শিক্ষার্থীরাই না, দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকসহ নানা পেশার মানুষ। জরুরি রোগী পরিবহন, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ প্রায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রয়োজনীয় সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে প্রতিদিনই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা বিএনপি নেতা হেলালুজ্জামান তরফদার বলেন, বছরের পর বছর ধরে এই সড়কটিসহ প্রায় পাঁচটি গ্রামীণ কাঁচা সড়ক পাকাকরণ ও ইটের সোলিংগুলো সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছি। বর্ষা এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ছোট ছোট শিশুদের খালি পায়ে কাদার মধ্যে হেঁটে স্কুলে যেতে দেখে খুব কষ্ট লাগে। দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ইউনিয়ন জামায়াত নেতা রিয়াছাত আলী বলেন, এই সড়কটি প্রতাপনগর ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের প্রতীক। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে স্থায়ী সমাধানের জন্য ওই সড়কটিসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচটি গ্রামীণ কাঁচা সড়ক পাকাকরণের জোর দাবি করছি।
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ বলেন, এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সড়ক। সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনুমতিসাপেক্ষে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে ওই রাস্তাসহ সংশ্লিষ্ট রাস্তাগুলোও সংস্কার করা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, প্রতাপনগর ইউনিয়ন আইলাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। আমি সরেজমিনে কয়েকবার গিয়েছি এবং স্থানীয় নেতাসহ জনপ্রতিনিধিদের বলেছি, যেসব সড়কগুলোর অবস্থা খুব ভয়াবহ সেগুলোর নোট আকারে আমাদের জানানোর জন্য। আশা করি, ধারাবাহিকভাবে সমস্ত সড়ক পাকাকরণের ব্যবস্থা করা হবে।









































