Home আঞ্চলিক মোংলায় সেতু আছে, রাস্তা নেই: হয়নি সংযোগ সড়ক

মোংলায় সেতু আছে, রাস্তা নেই: হয়নি সংযোগ সড়ক

10


খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।

বাগেরহাটের মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের আশায় পাখিমারা খালের ওপর একটি আধুনিক সেতু নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না হওয়ায় সেটি এখন এলাকাবাসীর কাছে আশীর্বাদের বদলে দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি ব্যবহার উপযোগী না থাকায় অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মিত সেতুটি মূল কাঠামোর কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে। স্থানীয়রা বাঁশের মই বসিয়ে অস্থায়ীভাবে পারাপারের ব্যবস্থা করেছেন। দুলতে থাকা ওই মই বেয়ে শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধদের সেতু পার হতে হচ্ছে, যা প্রতিদিনই তৈরি করছে দুর্ঘটনার শঙ্কা।

সেতুর এক পাশে রয়েছে বাঁশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আজিজ ভাট্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজার। সংযোগ সড়ক না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

সুন্দরবন ইউনিয়নের বাসিন্দা শিক্ষক জামাল ফরাজি বলেন, জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধান করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা কালাম শিকদার বলেন, পাঁচ বছরের বেশি সময় আগে সেতু নির্মাণ শেষ হলেও জমি-সংক্রান্ত জটিলতায় এখনও রাস্তা হয়নি। এতে দুর্ভোগের শেষ নেই।

জমিলা বেগম নামের এক বাসিন্দা জানান, বাঁশের মই থেকে পড়ে তার স্বামী গুরুতর আহত হয়েছেন। অনেকেই পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। ছোট শিশুদের ভয় নিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে।

আজিজ ভাট্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমন হাওলাদার জানান, মই বেয়ে সেতু পার হতে তার খুব ভয় লাগে। বাঁশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তন্নি বলে, স্কুলে যেতে হলে উঁচু মই বেয়ে উঠতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে পাখিমারা খালের ওপর সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এলজিইডির পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৯০ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটির মূল কাঠামোর কাজ ২০২১ সালে শেষ হয়। এতে ব্যয় হয় ৬ কোটি ৩২ লাখ ৭৩ হাজার ৫২২ টাকা। তবে দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ এখনও শুরু হয়নি।

বাগেরহাট এলজিইডির জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্ভব হয়নি। তবে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত জমি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুটনা ঘটতে পারে।