Home আঞ্চলিক চার বছরের মার্জিয়ার মলিন মুখটাতেই যেন নানা প্রশ্ন

চার বছরের মার্জিয়ার মলিন মুখটাতেই যেন নানা প্রশ্ন

11


ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
দুই বোন জিনিয়া আর মার্জিয়া। তাদের মধ্যে জিনিয়া বড় ৭ম শ্রেণীতে অপরদিকে ছোটবোন মার্জিয়ার বয়স মাত্র ৪ বছর। বাবা সারাদিন গাড়ি চালিয়ে প্রতিরাতেই রাতে বাড়ি ফিরে আদর করে। সাথে নিয়ে যায় মিষ্টি ও খাবার সামগ্রী। কিন্ত গত রাতে তাদের বাবা বাড়িতে ফেরেনি। তার জন্য শিশু মার্জিয়া কাঁদতে কাঁদতে কখন জানি ঘুমিয়ে গেছে। আর জিনিয়া পরিবারের অন্যদের সাথে রাত জেগে বাবা ফেরার অপেক্ষায় ছিল। কিন্ত পরের দিন শুক্রবার সকালেই বাড়িতে খবর আসে তাদের বাবার মরদেহ পড়ে আছে কালীগঞ্জ শহরের চিনিকল ফার্মের সড়কের পাশে।


এরপর পরিবার প্রতিবেশী স্বজনদের সাথে তারা দুই বোনও এসেছে যেখানে পড়ে আছে তাদের বাবার নিথর দেহ। দেখছে চারপাশে চেনা অচেনা অনেক মানুষের ভীড়, বড় বোন জিনিয়া মার্জিয়াকে কোলে নিয়ে অঝোরে কাঁদছে। পাশে কাঁদছে মা, পরিবারের লোকজন, গ্রামবাসীসহ অন্যরা। কিন্ত অবুঝ শিশু মার্জিয়া কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। কেননা সে বোঝে না তার বাবা নামের পৃথিবীটা আর ফিরে আসবে না। তবুও সামনে যে যাচ্ছে মুখের দিকে তাকিয়ে ফ্যালফেলিয়ে চেয়ে থাকছে। কিন্ত মুখটা বড়ই মলিন। এখনও বোঝার বয়স হয়নি তার। বলতে পারছে না কিছুই। তবুও বিবেকের কাছে তার চোখে মুখেই যেন নানা প্রশ্ন ভাসছে। বাবা একজন খেটে খাওয়া সাদাসিধে মানুষ। কিন্ত কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হলো। যদি নসিমন ছিনতাই করার জন্য এটি হয়ে থাকে তার মুল্যই বা কত। এখন তাদের কে দেখবে। কোথায় পাবে তাদের আদর করা বাবাকে। আর কেই- বা দিবে এ সব প্রশ্নের জবাব।


উল্লেখ্য, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ওমর আলী (৩২) নামের এক নসিমন চালককে হত্যা করে মোবারকগঞ্জ চিনিকল -রেলস্টেশন সড়কের পাশের খালপাড় ফেলে গেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ওমর আলী উপজেলার বেলাট বাজারপাড়া এলাকার আব্দুস ছাত্তারের ছেলে।